কোহিনূর রহস্য পর্ব:৬

অর্পণ (শঙ্খচিল) ভট্টাচার্য্য
5 রেটিং
373 পাঠক
This entry is part 6 of 8 in the series কোহিনুর রহস্য

১৭৩২ সালে শেষ শিশু সাফাবিদ রাজকুমারকে হত্যা করে নাদির পারস্যের রাজমুকুট কব্জা করেন। ১৭৩৮ এর বসন্তে অধিকার করেন আফগানিস্তানের কান্দাহার। মহম্মদ শাহের মতো নাদির শিল্পানুরাগী ছিলেন না। ময়ূর সিংহাসনের শিল্পকীর্তির প্রতি তাঁর কোনো অনুরাগ ছিল বলে মনে হয়না, কিন্তু ময়ূর সিংহাসনের বহুমূল্য রত্নের প্রতি তাঁর লোভ ছিল ষোলোআনা। তাঁর কোষাগারে বহুমূল্য রত্নের অভাব, আর তাঁর কাছে খবর আছে যে মুঘল ভারতের রত্নের ভান্ডার উপচে পড়ছে।এইবারে ফ্ল্যাশব্যাক….

হঠাৎ পারস্যের প্রসঙ্গে কেনো চলে গেলাম ভাবছেন তো..আগের পর্বে ময়ূর সিংহাসন ক্লাইম্যাক্স এ পৌঁছে যাওয়ার পর ইতিহাস পুরো ঘেঁটে দিলো বুঝলেন কিনা..তাই তো কোহিনূরের পারস্য যাত্রার গল্প শোনাতেই হবে দেখলাম..প্রথমেই মুঘল পর্বের শেষ প্রভাবশালী সম্রাট ঔরঙ্গজেবের কাহিনী এই প্রসঙ্গে না জানালেই নয়..

ঔরঙ্গজেবের শাসনকাল নিয়ে বহু বিতর্ক থাকলেও তাঁর সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের স্থান ছিল যথেষ্ট উঁচুতে, এমনকি আকবরের শাসনকালের থেকেও অনেক উন্নত। ১৭০০ সালের মুঘল ভারত ছিল বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। চীন ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর থেকে অনেক ওপরে ছিল তার স্থান। সারা বিশ্বের জনসংখ্যার ২৪% মানুষের বাস ছিল এই দেশে। নানা আঞ্চলিক সমস্যায় জর্জরিত হওয়া সত্ত্বেও অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে কাবুল থেকে কর্ণাটক পর্যন্ত বিস্তৃত ভারতভূমির ওপর মুঘল শাসনের শিকড় বিস্তৃত ছিল বেশ গভীরেই। কুড়ি কোটি মানুষের বাস দিল্লি ছিল সম্মিলিতভাবে লন্ডন ও প্যারিসের থেকেও বড়ো। তাকে টেক্কা দেবার ক্ষমতা অটোমানদের ইস্তাম্বুলেরও ছিল না, আর রাজকীয় টোকিওরও ছিল না। মুঘল ভারত সারা বিশ্বের সমগ্র শিল্পজাত দ্রব্যের ২৫% উৎপাদন করতো। আর তাই ভারতের জিডিপি ছিল সমগ্র পৃথিবীর জিডিপির ২৪% এরও বেশি। দুঃখের বিষয়, ১৯৫০ সালে তা দাঁড়ায় মাত্র ৪% এর সামান্য বেশি। 

ঔরঙ্গজেব


দীর্ঘ ঊনপঞ্চাশ বছরের দেশ শাসনের গুরু দায়িত্ব পালন করে ষষ্ঠ মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের মৃত্যু হয় ১৭০৭ সালে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁর পরবর্তী প্রজন্মে ছিল না নেতৃত্ব দেবার ক্ষুরধার বিচক্ষণতা। ক্ষমতার অলিন্দে তাই শুরু হলো ময়ূর সিংহাসন দখলের লড়াই। মুঘল শাসন পুনরায় স্থায়িত্ব পায় ১৭১৯ সালে, যখন ত্রয়োদশ মুঘল শাসক মহম্মদ শাহ সিংহাসনে আরোহন করেন দীর্ঘ উনচল্লিশ বছরের জন্য। হ্যাঁ, ১৭০৭ থেকে ১৭১৯, মাত্র ১২ বছরের অবসরে ঔরঙ্গজেব ও মহম্মদ শাহের মাঝে ৬ জন মুঘল সম্রাট ক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন, কেউ দু’বছরের জন্যে, কেউবা দু’মাসের জন্যে। এই ৬ জনের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয় গুপ্তহত্যায় অথবা সিংহাসন দখলের সম্মুখ সমরে। এঁদের মধ্যে, সম্রাট ফারুখশিয়ারের কথা একটু বলতে হয়। উত্তরাধিকারের যুদ্ধে প্রথমে তিনি পরাজিত হন, পরে বন্দি হন; বন্দিদশায় তাঁর জুটতো নুন ছাড়া তেতো খাবার। একসময় তাঁকে গরম শলাকা প্রয়োগ করে অন্ধ করে দেওয়া হয়। শেষে বন্দিদশায় গুপ্তঘাতকের হাতে তাঁর মৃত্যু হয়। অবশ্য ফারুখশিয়ারের পূর্ববর্তী ভারত সম্রাট, তাঁরই নিজের কাকা সম্রাট জাহান্দার শাহকে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে সামুগড়ের যুদ্ধে শুধু তিনি পরাজিত করেই ক্ষান্ত হননি, ঘাতকের সাহায্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে মৃত্যুদণ্ড দেন; এরপর একটি হাতির পিঠে মৃত সম্রাটের মাথাটিকে লম্বা বাঁশের আগায় গেঁথে ও ধড়টিকে অন্য একটি হাতির পিঠে বহন করে দিল্লির লালকেল্লায় সামনে শোভাযাত্রা করেন। ক্ষমতা দখলের এই কালো সময়ের দায় যদি কাউকে দিতেই হয় তো তাঁরা হলেন বাড়হা’র সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয়, আবদুল্লা খান ও হুসেন আলী খান। তাঁরা ‘কিং’ ছিলেন না, তবে নিঃসন্দেহে ‘কিং মেকার’ ছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার বাইরে থেকেও ক্ষমতাভোগের জন্য কৌশলে তাঁরা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা দখলের লড়াই বাঁধিয়েছিলেন মুঘলদের মধ্যে। ফারুখশিয়ারের শাসনকালে এই সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয় ময়ূর সিংহাসন থেকে ধীরে ধীরে সরাতে থাকেন মূল্যবান রত্ন। তবে দুই বিখ্যাত রত্ন, কোহিনূর আর তিমুর রুবি তাঁরা সরাতে পারেননি, কোহিনূর তখনও ময়ূর সিংহাসনের শীর্ষে স্বমহিমায় প্রোজ্জ্বল।

এই সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয়ের সাহায্যেই ১৭১৯ সালে মহম্মদ শাহ সিংহাসন আরোহন করেন। তবে বিলাসী ‘সদা রঙ্গিলা’ (মানসিক পীড়নহীন জীবন যাপনের জন্য তাঁকে আড়ালে এই নামে ডাকা হতো) সম্রাট সিংহাসন আরোহন করে তা নিষ্কন্টক করবার জন্য একটি কাজের কাজ করেন – গুপ্তঘাতক লাগিয়ে দুজনকেই একে একে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেন। সদা রঙ্গিলা সম্রাটের জীবন ছিল ভীষণ রঙিন। পোশাক-আষাকে ছিলেন ফ্যাশনদুরস্ত; নিয়ে এসেছিলেন নতুন ফ্যাশন, পুরুষদের মধ্যে নারীদের পোশাক পেশওয়াজ পরবার রেওয়াজ। গান-বাজনায় রসিক সম্রাট লোকসঙ্গীতে ব্যবহৃত সেতার আর তবলাকে নিয়ে এলেন দরবারী আঙিনায়। চিত্রশিল্পেও ছিল যথেষ্ট অনুরাগ। মুঘল ক্ষুদ্র শিল্পশালার গৌরব পুনরুদ্ধারে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তিনি নিয়ে এলেন দুই প্রতিভাবান শিল্পী – নিধা মাল ও চিতর্মানকে। এই দুই শিল্পীর হাত দিয়ে তৈরী হলো অসামান্য অনেক শিল্প। মুঘল দরবার ও অন্দরমহল, সম্রাটের জীবন ও সাম্রাজ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, কিছুই বাদ গেলোনা তাঁদের তুলির আঁচড় থেকে। প্রাসাদে হোলি খেলার দৃশ্য, সম্রাটের যমুনা তীরের প্রমোদভ্রমণ, লালকেল্লায় জনসাধারণের মধ্যে মন্ত্রীসহ সম্রাটের বিচরণ সব ফুটে উঠলো তাঁদের ক্যানভাসে।

মহম্মদ শাহের ভারতবর্ষ মাত্র দু’দশক আগের আওরঙ্গজেবের কঠোর ইসলামিক অনুশাসনে বাঁধা ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থিত ছিল। মহম্মদ শাহের ভারতবর্ষে ছিল খোলা হাওয়া – এমনকি শিল্প, নৃত্য, সংগীত, সাহিত্যে শরীরী প্রেমের প্রকাশে কোনো সংকোচ থাকতো না। সাহিত্যিকরা নিত্য নূতন পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছেন, কবিদের অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রণয়মূলক কাব্য লিখতে কোনো সংকোচ বা ভয় নেই; ঠিক যেমনটি হাজার বছর আগে প্রাচীন ভারতে কালিদাস ও তাঁর সমসাময়িক কবি বা সাহিত্যিকরা লিখে গেছেন। এই সময়ে রাজধানীতে ছিল লাস্যময়ী বারাঙ্গনাদের অশেষ কদর। অভিজাত শ্রেণীর মানুষদের হামেশাই পান-ভোজনের আসর বসতো। সেখানে সুন্দরী বারাঙ্গনারা আমন্ত্রিত হতো। সে আমলের এক বিখ্যাত বারাঙ্গনা আদ বেগম একবার সম্পূর্ণ নগ্নদেহে এসেছিলেন এরকম এক আসরে, সাধারণ চোখে ধরাই পড়েনি যে তাঁর পরনে পাজামা ছিল না, আসলে তা ছিল পাজামার আদলে আঁকা সুন্দর রঙিন ‘বডি-আর্ট’। তাঁর প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী নূরবাঈ শরীরী বিভঙ্গ আর লাস্যের হিল্লোলে অনেক ওমরাহকে করেছিলেন ঘায়েল। শোনা যায় বহু অর্থব্যয় করে তাঁর সঙ্গলাভ করা যেত; আর যে একবার এই সুন্দরীর সঙ্গলাভ করেছে, কপর্দক শূন্য হয়ে যাওয়া পর্যন্ত সে সেই বিভঙ্গের আগুনের চারপাশে আবর্তিত হতো পতঙ্গের মতো।

এই সময়ের প্রভাব পড়েছিল তৎকালীন চিত্রকলাতেও। আমোদ, প্রমোদ, ভ্রমণ, ক্রীড়া, এমনকি যৌন-ক্রীড়াও প্রতিফলিত হতো ক্যানভাসে। সম্রাটের যৌন-জীবনের চিত্রায়নে তাঁর নিজের যেমন কোনো লজ্জাবোধ ছিল না, তেমনি শিল্পীর ওপরেও ছিল ভয়ের বা মানসিক চাপের আবেশ। শিল্প-সাহিত্য-নৃত্য-সংগীত অনুরাগী ‘রঙ্গিলা’ শাহ কিন্তু রাজনীতি, রণনীতি, শাসনব্যবস্থা ইত্যাদি থেকে থাকতেন অনেক দূরে। ওয়াজির-ওমরাহরাই আদতে চালাতো সমগ্র শাসনব্যবস্থা। সম্রাটের গাফিলতিতে একরকম স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ঘটে যাচ্ছিলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। দুর্বল সম্রাটের সুযোগ নিয়ে উত্তরে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছিলেন অওধের নবাব সাদাত খান, আর দক্ষিণে আওরঙ্গাবাদের নিজাম উল মুল্ক। তাঁরা দুজনেই ছিলেন মুঘলদের বশংবদ, তবে তা নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্যেই। দুজনেই স্থাপন করেছিলেন স্থানীয় বংশানুক্রমিক শাসন-ব্যবস্থা যা পরবর্তী একশো বছর ধরে স্থায়ী ছিল। দুজনেই ছিলেন একে অপরের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী। কালক্রমে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাই মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

সম্রাট মহম্মদ শাহ স্বদেশে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই এ হয়ে যাচ্ছিলেন জেরবার। এদিকে ভারতবর্ষের পশ্চিম সীমান্তে ঘনিয়ে উঠলো সমস্যার নতুন মেঘ। পারস্যে হঠাৎ উদিত হলেন জাতিতে আফসারী-তুর্কি, তবে পার্সিভাষী নাদির শাহ। সামান্য পশুপালকের ঘরে জন্ম তাঁর, কিন্তু কুশলী যোদ্ধা হবার জন্য সেনাবাহিনীতে করেছিলেন প্রভূত উন্নতি। তাঁর কাছে না ছিল শিল্পের কদর না ছিল শিল্পীর সম্মান। তিনি ছিলেন ভীষণ রুক্ষ, শক্তপোক্ত, নির্মম, মেজাজি এক যোদ্ধা; অপরদিকে মহম্মদ শাহ ছিলেন রুচিবোধ সম্পন্ন, শিল্পানুরাগী, লঘু হৃদয়ের এক মানুষ। দুজনের চরিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত।

ধর্মতত্ত্ব ও চিকিৎসাশাস্ত্রে পন্ডিত লুই বাজিন নামে এক ফরাসি ধর্মপ্রচারক পারস্যে আসেন ১৭৪১ সালে। কালক্রমে তিনি হয়েছিলেন নাদির শাহের চিকিৎসক। নাদিরের মৃত্যু পর্যন্ত তিনি পারস্যে ছিলেন। ১৭৫১ সালে তিনি বন্দর আব্বাস থেকে জাহাজে করে চীন চলে যান। ১৭৭৪ সালে পিকিং এ তাঁর মৃত্যু হয়। বাজিন বন্দর আব্বাস থেকে দু’টো চিঠি পাঠান পেরে রজার নামে তাঁর এক সতীর্থকে। এই দুই চিঠিতে তিনি সযত্নে নাদির শাহের সময়কার পারস্য, তাঁর শাসনব্যবস্থা ও তাঁর চরিত্র বিশ্লেষণ করে গেছেন। বাজিনের বয়ানে নাদিরের প্রতি ভয়মিশ্রিত শ্রদ্ধার ভাব প্রকাশ পেয়েছে।

বাজিন লিখেছেন যে, নিরক্ষর ও সাধারণ পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও নাদির যেন নেতা হয়েই জন্মেছিলেন। তিনি ছিলেন বলিষ্ঠ, শক্তিশালী, লম্বা, টিকোলো নাকের অধিকারী, গায়ের রং ছিল শ্যামলা। ছোট ছোট চোখের নজর ছিল শলাকার মতো তীক্ষ্ণ। আর নিচের ঠোঁট ছিল সামনের দিকে সামান্য বর্ধিত। তাঁর গলা ছিল রুক্ষ ও উঁচুপর্দার। তাঁর কোনো স্থায়ী প্রাসাদ বা বাসস্থান ছিল না। তিনি থাকতেন তাঁবুতে। তাঁর মাথার মুকুট বা বলা ভালো শিরস্ত্রাণ লুটোপুটি খেতো অস্ত্রের গাদায়। তাঁর দলের সাহসী যোদ্ধারা ছিল তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু। যুদ্ধে তিনি থাকতে ভয়ডরহীন। নিজেকে সাহসিকতার শেষ সীমায় ঠেলে দিতেন; কখনো কখনো তিনি হয়ে যেতেন হঠকারী, আর তখন নিজের বিপদ তিনি নিজেই ডেকে আনতেন। তাঁর অর্থলিপ্সা ছিল মারাত্মক, যা দেশের মানুষের জীবনের চরম দুর্দশার কারণ হয়। তাঁর দ্রুত পতনের অন্যতম কারণও ছিল তাঁর এই সীমাহীন লোভ। তাঁর বর্বর ও হিংসাত্মক কার্যকলাপে পারস্য হয়েছিল রক্তাক্ত। সংক্ষেপে এই হলো নাদির সম্পর্কে বাজিনের অনুভূতি।

(ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং তথ্যধর্মী যা আপনাদের অনেক অজানা তথ্যের সন্ধান দিতে পারে ভেবেই পর্ব দীর্ঘায়িত যাকে কেউ কেউ মহাপর্ব বলতেই পারেন..আশা রাখি ধৈয্য ধরে,সময় দিয়ে কলমকে উপভোগ করবেন..)

©️শঙ্খচিল

Series Navigation<< কোহিনূর রহস্য পর্ব:৫কোহিনূর রহস্য পর্ব:৭ >>
আপনার রেটিং দিন:
[Total: 1 Average: 5]
আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

রেটিং ও কমেন্টস জন্য



  • নিলয় সরকার May 25, 2020 at 5:54 pm

    khub sundor

  • নতুন প্রকাশিত