পশ্চিমবঙ্গের 7 টি আকর্ষণীয় অফবিট বেড়ানোর জায়গা

কনিকা দত্ত
0 রেটিং
428 পাঠক

ভারতে পর্যটকদের কাছে এখন প্রথম সারির পছন্দ তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন। আর তাই পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনের আকর্ষণ আরও বাড়াতে, ক্রমাগত নতুন উদ্যোগ নিয়ে চলেছে রাজ‍্য সরকার। 
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগে ১৭০০ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত কলকাতা ছিল ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী। এই কারণে কলকাতায় নিও-গথিক, ক্যারোক, নিও-ক্ল্যাসিকাল, প্রাচ্য ও ইসলামি শৈলীর প্রচুর অট্টালিকা ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে ওঠে। এবং কলকাতার ভবন ও স্থাপনাগুলির স্থাপত্যশৈলীতে যথেষ্ট বৈচিত্র্য দেখা যায়। প্রধানত ব্রিটিশরা এবং অল্প কয়েকটি ক্ষেত্রে পর্তুগিজ ও ফরাসিরা যে ইউরোপীয় স্থাপত্য ও রুচির আমদানি এই শহরে করেছিল, সেটিই এই বৈচিত্র্যের কারণ। পূর্বের এইসব শাসক শক্তিগুলির সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এই রাজ্যটি আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা করার জন্য একটি দুর্দান্ত জায়গা। 
আপনি পশ্চিমবঙ্গের শহর এবং গ্রাম গুলো ভ্রমন করে রাজ্যের অতীত সম্পর্কে জানতে পারেন। কলকাতা, দার্জিলিং, সুন্দরবন ইত্যাদি সব জায়গাগুলো নানা কাহিনীতে ভরা থাকলেও এগুলি ছাড়া অন্য আরও বহু দ্রষ্টব্য ও জনপ্রিয় পর্যটন স্থান এই রাজ‍্যে বর্তমান। যেসব স্থানে প্রচুর পর্যটকেরা ভিড় করতে থাকে বিশেষত ছুটির মরসুমে। 
আপনি যদি এই সুন্দর পশ্চিমবঙ্গ রাজ‍্যটি অন্বেষণ করতে চান তবে খুব কম সংখ্যক পর্যটক যেসব জায়গাতে ভ্রমন করেন সেই অফবিট গন্তব্যগুলিতে ঘুরে দেখুন। যেগুলি আপনার কাছে দেখতে খুব সুন্দর এবং আকর্ষণীয় মনে হতে বাধ্য ।
★★★★★★★★★★★★★★★★★★


গড়পঞ্চকোট–চলুন সবাই, প্রথমেই যাই গড়পঞ্চকোট। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় একটি অফবিট গন্তব্য।
পুরুলিয়ার উত্তর দিকে পাঞ্চেত পাহাড়ের পাদদেশে শাল, পিয়াল, আর ঘন মহুয়ার জঙ্গলে ঘেরা গড়পঞ্চকোট দু-তিন দিনের সপ্তাহান্তের ভ্রমণের জন্য আদর্শ জায়গা।গড় পঞ্চকোট কলকাতা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে পুরুলিয়ায় অবস্থিত। আপনারা যারা প্রকৃতি প্রেমিক তাদের জন্য গড়পঞ্চকোট অসাধারণ জায়গা। চারিদিকে সবুজ জঙ্গলে ঘেরা। নাম না জানা পাখিতে ভরা পাঞ্চেত পাহাড় আর বনভূমি প্রত‍্যেক ঋতুতে তার রূপ আর রং পাল্টায়। শীতে মনোরম আবহাওয়া আর জঙ্গলের পাতা ঝরা রুক্ষ বসন, বসন্তকালে পলাশের আগুন রং আর বর্ষায় ঘন সবুজ।
গড়পঞ্চকোটে প্রায় পাঁচ মাইল বিস্তৃত একটি দূর্গ ছিল। বিশাল পাঞ্চেত পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই দূর্গের স্থাপত্য বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং অবলুপ্তির পথে। পাঞ্চেত পাহাড়ের একদিকে পাঞ্চেত বাঁধ আর অন্যদিকে গড়পঞ্চকোট দূর্গের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাবেন।


দেখবেন,গড়পঞ্চকোটের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য মন্দির টেরাকোটা নির্মিত দক্ষিণ ও পূর্বদুয়ারী পঞ্চরত্ন রাসমন্দির। জায়গাটা বেশ নির্জন আর চারিদিকে সবুজ গাছপালা দিয়ে ঘেরা। সৈনিক আবাসের মধ্যে অবস্থিত এই মন্দিরটি বেশ আকর্ষণীয়।
গড়পঞ্চকোট থেকে ঘুরে নিতে পারেন পাঞ্চেত বাঁধ,বিহারীনাথ পাহাড়, বড়ন্তি ও জয়চন্ডী পাহাড়। সবগুলো জায়গাই গড়পঞ্চকোট থেকে মাত্র ২০-৩০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত।
ট্রিপ টিপস–
কিভাবে যাবেন–সড়ক পথ–কলকাতা থেকে ভলভো বাস এ করে আসানসোল। সেখান থেকে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে বরাকর হয়ে গড়পঞ্চকোট। রেল পথ–রেল পথে গড়পঞ্চকোটের নিকটবর্তী স্টেশন হলো বরাকর। সেখান থেকে সরাসরি গড়পঞ্চকোটে যাবার গাড়ি পেয়ে যাবেন।
কোথায় থাকবেন–গড়পঞ্চকোটের গড়, বিরিঞ্চিনাথের মন্দির, জয়চন্ডী পাহাড়, বড়ন্তি তে মুরারডি লেক, কল‍্যানেশ্বরী মন্দির। 
কখন যাবেন– গরমকালে এই অঞ্চলে অত‍্যাধিক গরম থাকে তাই তখন না গিয়ে, শীতকালে এবং অবশ্যই একবার বর্ষাকালে বেড়িয়ে আসুন এই অঞ্চল থেকে। সেরা সময় হলো–নভেম্বর থেকে মার্চ এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর।।
★★★★★★★★★★★★★★★★★★


ডুয়ার্স–আপনারা সবাই চলুন,এরপর যাই আরও একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরা এবং সবুজে সবুজ গন্তব্য “ডুয়ার্স”। 
ডুয়ার্স একটি প্লাবনভূমি যা বহু ভারতীয় ভাষায় আক্ষরিক অর্থে “দরজা” হয় এবং ভুটানের পাহাড় এবং ভারতের সমভূমিগুলির মধ্যে অবস্থিত 18 টি প্যাসেজের কারণে জায়গাটির নামকরণ করা হয়। ডুয়ার্স দ্বারা ভুটান ও ভারতের মধ্যে যোগাযোগ সম্পন্ন হয়। এই অঞ্চল ভুটান তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার। এই অঞ্চলের গড় উচ্চতা ১৫০-১৭০০ মিটারের মধ্যে। 
হিমালয়ের পাদদেশ তথা সমভূমি ও পর্বত অঞ্চলের মিলনস্থানে ডুয়ার্স এর অবস্থান।পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার এবং অসমের ধুবড়ি, কোকড়াঝাড়, বরপেটা, গোয়ালপাড়া ও বঙাইগাঁও জেলা নিয়ে ডুয়ার্স অঞ্চল গঠিত। ডুয়ার্স নামটা কানে কিংবা মনে এলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সবুজ এক পাহাড়িয়া প্রকৃতির হাতছানি। অপরূপ সুন্দর একটি জায়গা, যেখানে দেখতে পাবেন,একদিকে চা বাগান এবং অন্যদিকে নদী, জঙ্গল আর পাহাড়িয়া গ্রামেরা থাকে হাত ধরাধরি করে থাকে । 
ডুয়ার্স বিগত দুই দশক ধরে একটি খুব জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে খ‍্যাতি লাভ করেছে। এখান থেকেই আরও বিশেষ কিছু জায়গা ঘুরে নিতে পারেন। যেমন–বক্সা টাইগার রিজার্ভ, বক্সা ফোর্ট, গরুমারা, জাতীয় উদ‍্যান, চেলসা, জলদাপাড়া জাতীয় উদ‍্যান, রাজাভাতখাওয়া, বিন্দু, হাসিমারা, গোরুবাথান ইত্যাদি। 
ট্রিপ টিপস–
কিভাবে যাবেন–নানা ভাবে যাওয়া যেতে পারে লাটাগুড়ি।কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস ধরে নিউ মাল জংশনে নামুন।সেখান থেকে চালসা হয়ে লাটাগুড়ি আসতে বাস বা ভাড়া গাড়ি মিলবে। দূরত্ব ২৫ কিমি।  তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস ও কামরূপ এক্সপ্রেস ধরে নিউ ময়নাগুড়ি নেমেও এখানে আসা যায়। আবার নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সড়কপথে ১.৪৫ ঘন্টায় সরাসরিও চলে আসতে পারেন।
কোথায় থাকবেন–লাটাগুড়িতে থাকার জন্য বেশ কিছু বেসরকারি ব্যবস্থা আছে। সরকারি পর্যটক আবাসে অন্যান্য জায়গায় থাকতে যোগাযোগ করুন: পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগম, কে বি ১৯, সেক্টর থ্রি, সল্ট লেক, গ্রাউন্ড ফ্লোর, কলকাতা ৭০০ ১০৬।
কখন যাবেন– সারা বছরই ডুয়ার্স যাওয়া যায় তবে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গরুমারা ও জলদাপাড়া জাতীয় উদ‍্যান বন্ধ থাকে।
★★★★★★★★★★★★★★★★★★


লেপচাজগত–এবার চলুন সকলে মিলে যাই অন্য একটি সুন্দর জায়গা। লেপচাজগত।
লেপচাজগত, দার্জিলিং এর পাহাড়ঘেরা একটি নির্মল নির্জন গ্ৰাম যা অফবীট লাভারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।যা বিখ্যাত হিল স্টেশন দার্জিলিং থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।”লেপচা” একটি উপজাতি গোষ্ঠী যা এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করত, এখান থেকেই এই গ্রামের নামটি পেয়েছিল। ব্রিটিশরা আসার পর পরিচিতি পেয়েছিল এই আদিবাসী গ্ৰাম এখন যা জনপ্রিয় “উইকেন্ড ডেস্টিনেশন”। মধুচন্দ্রিমার জন্য ও আদর্শ জায়গা। ওক, পাইন, রডোডেনড্রনে মোড়া রাস্তার দুধার। “মেঘ এখানে গাভীর মতো চরে”—যা মাঝে মাঝেই ঢেকে দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘাকে। আকাশের মুখ ভার না থাকলে অবশ্য কাঞ্চনজঙ্ঘা হতাশ করবে না আপনাকে। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখার স্বর্গীয় অভিজ্ঞতাটা কিছুতেই মিস্ করবেন না। বাহারি ফুল ছাড়াও প্রচুর পাখি চোখে পড়বে এখানে। ফায়ার-টেল্ ড সানবার্ডের মতো বিরল প্রজাতির পাখি ও। হাঁটতে বেরিয়ে ক‍্যামেরা রেডি রাখবেন সবসময়। আর বাইনোকুলার ও। ফরেস্ট ট্রেল ধরে যতদূর মন চায় হেঁটে বেড়ান। পাশে ই রয়েছে বিশাল চা-বাগান ও। বিরল প্রজাতির কিছু অর্কিড ও দেখতে পেয়ে যাবেন এই গ্ৰামে।
দার্জিলিং থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে লেপচাজগত। হাতে যদি বেশি সময় থাকে, লেপচাজগত ট‍্যুর প‍্যাকেজেই যোগ করে ঘুরে নিতে পারেন মিরিক, ঘুম, মানেভঞ্জন, বাতাসিয়া লুপ বা জোরপোখরি, কালিম্পং-কার্শিয়াং এর মতো জায়গাগুলো। 
ট্রিপ টিপস–
কিভাবে যাবেন– কলকাতা থেকে বাস বা ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি। এরপর ভাড়া বা শেয়ারড জীপে। 
কোথায় থাকবেন–ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড এর রিসর্ট জনপ্রিয়। এছাড়া অন‍্যান‍্য হোম স্টে’র ব‍্যবস্থাও রয়েছে এখানে।
কখন যাবেন– সেরা সময় অক্টোবর থেকে এপ্রিল।
★★★★★★★★★★★★★★★★★★


সান্দাকফু–আপনারা এবার সবাই চলুন,এরপর যাই আরও একটি পাহাড়ি এলাকায়, যা কিনা অফুরন্ত সৌন্দর্যে ভরপুর। আর যদি ট্রেকিং করেন তবে তো সমস্ত পথ জুড়েই প্রচুর সৌন্দর্য উপভোগ করার সাক্ষী থাকবেন।
দার্জিলিং জেলার তথা পশ্চিমবঙ্গের ভ্রমণ পিপাসুদের জীবনে অন্তত একবার যাওয়া উচিত সে রকম একটি জায়গা হলো সান্দাকফু।সান্দাকফু বা সান্দাকপুর (৩,৬৬৫ মি; ১১,৯৩০   ফুট) এটি পশ্চিমবঙ্গ- নেপাল সীমান্তের দার্জিলিং জেলার সিঙ্গালিলা পর্বতের সর্বোচ্চ শিখর। সান্দাকফু ট্রেকিংয়ের অন্যতম সন্ধানযোগ্য স্থান। 
সান্দাকফু গাড়ি করেও যেতে পারেন বা ট্রেক করেও। যাত্রা শুরু হয় মানেভঞ্জন থেকে, দার্জিলিং থেকে ২৮ কিমি। মানেভঞ্জন থেকেই প্রয়োজনে নেবেন পোর্টার ও গাইড। মানেভঞ্জন থেকে কেউ চাইলে ১৯৫০ সালে তৈরি ল্যান্ড রোভারে চড়ে সান্দাকফু ও ফালুট অবধি যেতে পারেন। যদিও খাড়াই পাহাড়ি পথ হওয়ার করণে এই যাত্রা খুব একটা আরামদায়ক নয়।
সান্দাকফু পর্যন্ত পুরো ট্রেকিং শেষ হতে 7-8 দিন সময় পর্যন্ত ও লাগতে পারে। ট্রেকিংয়ের সময় আপনি জাতীয় উদ্যানটি ঘুরে দেখতে পারেন যেখানে আপনি হিমালয়ান ব্ল‍্যাক বিয়ার, ক্লাউডেড লেপার্ড বা স্কারলেট মিনভেটের মতো পাখি দেখতে পেতে পারেন।  
শিখরটি সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের কিনারায় অবস্থিত এবং শীর্ষে কয়েকটি হোটেল সহ সামিটের একটি ছোট্ট গ্রাম রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি পর্বতের চারটি এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, লোৎসে এবং মাকালুকে এর শীর্ষ থেকে দেখতে পাবেন। এবং ওই সৌন্দর্য উপভোগ করে আপনার জীবন সার্থক হয়ে যাবে। খুব ভোরে দেখতে পাবেন অপূর্ব সানরাইজ। সুইসাইড পয়েন্ট ও ঘুরে নেবেন। 
ট্রিপ টিপস–
কিভাবে যাবেন– কলকাতা থেকে ট্রেনে নিউজলপাইগুড়ি। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে মানেভঞ্জন। মানেভঞ্জন থেকে ল‍্যান্ডরোভারে করে সান্দাকফু যেতে হবে।
কখন যাবেন–বর্ষাকাল ছাড়া যে কোনো সময়ই সান্দাকফু যাওয়া যায়।
★★★★★★★★★★★★★★★★★★


শঙ্করপুর–ভিড়ভাট্টা পচ্ছন্দ নয়? চলুন যাই সৈকত শহর শঙ্করপুর। নির্জনতার আরেক নাম শঙ্করপুর। একটি অফবিট গন্তব্য। 
এটি পরিচ্ছন্ন এবং নির্জন সৈকত সহ দর্শনার্থীদের স্বাগত জানায় যেখানে আপনি উদ্বিগ্ন এবং বিচ্ছিন্নতায় বিশ্রাম নিতে পারেন। শহরটি কলকাতা থেকে প্রায় 176 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত যা পৌঁছাতে আপনার লাগবে 4-5 ঘন্টা সময় এবং দিঘা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে। উইকএন্ডে যাত্রার জন্য উপযুক্ত। শঙ্করপুরের দু’টো চেহারা। একটা নিরিবিলি সৈকত, আরেকটা ব্যস্ততায় সরগরম মৎস্যবন্দর।
শঙ্করপুর মৎস্য বন্দর পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত একটি সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ কেন্দ্র। মৎস্য আহরণ এর সাক্ষী হতে পারেন সকাল সকাল সৈকত এ যেতে পারলে। বন্দরটি দীঘা শহরের কাছেই অবস্থিত। 
ট্রিপ টিপস–
কিভাবে যাবেন– হাওড়া থেকে ট্রেনে রামনগর পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে গাড়ি করে শঙ্করপুর যাওয়া যায় । এছাড়া সরাসরি গাড়ি নিয়েও এখানে যাওয়া যেতে পারে ।
কোথায় থাকবেন–শঙ্করপুরে অল্পসংখ্যকই হোটেল আছে ।
কখন যাবেন–বছরের যে কোনো সময়ই যেতে পারেন এই অফবিট গন্তব্যে।
★★★★★★★★★★★★★★★★★★


চন্দ্রকেতুগড়— চলুন,আপনার ইতিহাসে উৎসাহ থাকলে ঘুরে আসি চন্দ্রকেতুগড়,কলকাতা থেকে মাত্র ৪৫ কিমি দূরে অবস্থিত অফবিট শহর চন্দ্রকেতুগড় দেখুন।
কলকাতা থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে বেড়াচাঁপার চন্দ্রকেতুগড়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব যথেষ্ট। এখানে মাটি খুঁড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়ার পর থেকে ইতিহাসবিদ এবং পর্যটকেরা ভিড় জমাতে শুরু করেছিলেন। বিদ্যাধরী নদীর পাশে চন্দ্রকেতুগড় এমন একটি প্রত্নতাত্বিক শহর, যা প্রাচীন গঙ্গারিদাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল যা আজ থেকে ২,৫০০ বছর আগে বিদ্যমান ছিল।খননকাজের মধ্যে পোড়ামাটির শিল্প, ইট এর কাঠামো,খনা মিহিরের ঢিবি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই খননকার্যগুলি এখন ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ তত্ত্বাবধানে রয়েছে।অতএব সপ্তাহান্তে বেড়িয়ে আসার তালিকায়,একটি অতীত যুগ উপভোগ করতে, চন্দ্রকেতুগড়কে যোগ করতে পারেন আপনিও।
খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকের মৌর্য, গুপ্ত আর কুষাণ যুগের নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে চন্দ্রকেতুগড়ে খননকার্য চালিয়ে। কথিত আছে, চন্দ্রকেতু নামে এক রাজার গড়, অর্থাৎ দুর্গ ছিল বলেই জায়গাটার এই নামকরণ। এখানকার দর্শনীয় জায়গা হল খনা মিহিরের ঢিবি ।
কাছাকাছির মধ্যে পীর গোরাচাঁদের অর্ধসমাপ্ত মসজিদও দেখে নেবেন। চন্দ্রকেতুগড়ের আশপাশে রিকশা বা ভ্যানে চেপে ঘুরে আসবেন বিদ্যাধরী ব্রিজ। এখান থেকে বিদ্যাধরী নদীর রূপ অসাধারণ! অভিনেতা ছবি বিশ্বাসের বাড়িও এই জায়গাতেই।
ট্রিপ টিপস–
কীভাবে যাবেন–এসপ্ল্যানেড বা উল্টোডাঙা থেকে বেড়াচাঁপার বাস ধরতে হবে। বারাসত হয়ে গেলে দু’ঘণ্টার কাছাকাছি সময় লাগবে।
কোথায় থাকবেন–কলকাতা থেকে দূরত্ব বেশি নয় বলে এখানে সাধারণত একদিনের মধ্যেই ঘুরে চলে আসা যায়।
কখন যাবেন–বছরের যে কোনো সময়ই যেতে পারেন এই ঐতিহাসিক অফবিট গন্তব্যে।
★★★★★★★★★★★★★★★★★★


সামসিং–দুদিনের জন্য মানসিক শান্তি খুঁজতে চান? পাহাড় ডাকছে? তাহলে চলুন বেড়িয়ে পড়ি সামসিং-র উদ্দেশ্যে।আর ও একটি অদ্ভুত ছোট্ট গ্রাম সামসিং,মনোরম এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সাথে, সবুজ-কমলা পাহাড়ি সামসিং একটি আদর্শ অফবিট যাত্রা হয়ে উঠবে।
বাংলা ভুটান সীমান্তে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার পাদদেশে এই গ্রামটি বসতি স্থাপন করেছে এবং এটি সবুজ চা বাগান, বন এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এমনই এক অল্প পরিচিত জনপদ সামসিং।আরও একটা রং আপনার চোখে পড়বে সামসিংয়ে। কমলা রং! চা ও কমলালেবু চাষ করাই এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা। পাইনের বদলে শাল, শিমুলের বিশাল বৃক্ষরাজির দখলে থাকা সামসিং-এ প্রচুর কমলালেবু গাছ আর নানা পাখির দেখতে পাবেন। শীতে এখানে একটি বিশেষ কমলালেবুর ফেস্টিভ্যাল হয়। 
কাছেই রকি আইল্যান্ড। সামসিং থেকে দেড় কিমি দূরে অবস্থিত মূর্তি নদী দেখতে গেলে সেখান থেকেও ঘুরে আসতে পারেন। প্রায় ২,৫০০ ফুট উচ্চতায় এলে দেখবেন এক অপূর্ব সুন্দর উপত্যকা। 
সামসিং থেকেও আরও কিছু জায়গা ঘুরে নিতে পারবেন— যেমন সুনতালেখোলা নেচার ক্যাম্প কিংবা নেওড়া ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক। নানা ধরনের পশুপাখির বাস এই পার্কে। 
কলকাতা থেকে সামসিং-এর দূরত্ব ৬৩৮ কিমি। কিন্তু শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ৮১ কিমি দূরে। চালসা পার করে পথ গিয়েছে চা বাগানের ভিতর দিয়ে। ডাইনে বাঁয়ে যতদূর চোখ যায় সবুজ চা-বাগান। মূর্তি নদীর কোলে পাহাড় পাইন শাল সেগুনের বন দিয়ে ঢাকা বন্য গ্রাম। 


ট্রিপ টিপস
কীভাবে যাবেন–শিলিগুড়ি মিত্তাল বাসস্ট্যান্ড থেকে সামসিং যাওয়ার জন্য বাস ছাড়ে। তবে সারাদিনে মাত্র দুটি বাস যায়। তাছাড়া যে-কোনও বাসে করে চালসা চলে যান। সেখান থেকে শেয়ার জিপে বা গাড়ি রিজার্ভ করে চলে যান সামসিং। চালসা থেকে সামসিং-র দূরত্ব ১৮ কিমি। কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসও যায় নিউ মাল জংশনে। সেখান থেকে মেটেলি হয়ে সামসিং ৩০ কিলোমিটার।
কোথায় থাকবেন–সামসিং-এ থাকার জন্য রয়েছে সামসিং ফরেস্ট রেস্ট হাউস। প্রাইভেট হোটেলও আছে। অনেক বেসরকারি লজও রয়েছে।সামসিংয়ে এখন একাধিক হোম-স্টে হয়েছে।
কখন যাবেন–বছরের যে কোনো সময়ই যেতে পারেন, কিন্তু কমলা রং দেখার জন্য যেতে হবে শীতকালে এই সবুজ-কমলা পাহাড়ি অফবিট গন্তব্যে।
☆☆☆★★★☆☆☆★★★☆☆☆★★★

চিত্র সৌজন্য : গুগল

আপনার রেটিং দিন:
[Total: 0 Average: 0]
আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:
  • প্রণব মুখার্জি March 29, 2020 at 10:16 am

    অসাধারণ লিখেছেন। আপনার পর্যটনের ওপর এই লেখাতে মুগ্ধ হয়েছি ম্যাডাম। আপনার এই গুনটা জানা ছিল না। আমি বেড়াতে ভালো বাসি। তাই আমার লেখাটা ভালো লেগেছে।আরো এরকম লেখা লিখুন। আপনি একজন বিদূষী মহিলা। ধন্যবাদ আপনাকে।

  • Niloy Sarkar April 30, 2020 at 10:21 pm

    অনেক অজানা তথ্য পেলাম