ডোকরা পোড়ামাটির দেশে

দেবলীনা সাহা রায়
5 রেটিং
1829 পাঠক

পায়ের তলায় সর্ষে ছড়িয়েই হয়তো হাঁটতে শিখেছিলাম। তাই কিছুদিন ঘরে  থাকতে না থাকতেই মন টা বাইরে বেরোনোর জন্য অস্থির হয়ে ওঠে। গতবছর ডিসেম্বর এর ছুটিতে ছিলাম রেশমপথে। রেশমপথ শুধু আমার ভ্রমণ অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারে পল কাটা দামি হীরেই নয়, আক্ষরিক অর্থেই রেশমপথ আমার কাছে বিশেষ মূল্যবান। কারণ চোখ ও মনের সাথে তাল মিলিয়ে রেশমপথ আমার কলম কেও শান্তি দিয়েছিল। “সানন্দা” ম্যাগাজিনে  “রেশমপথের ডায়েরি থেকে” শিরোনামে প্রকাশ পেয়েছিল সেই ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। হতেই পারত গত বছরের মত এ বছর ডিসেম্বরেও আমার ভ্ৰমণ ভাণ্ডারে একটা নতুন হীরের সংযোজন। কিন্তু নাঃ, তা আর হলো না। এবছর আর কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করা হয়নি। যারপরনাই মন খুব খারাপ। কিন্তু ওই যে, পায়ের তলায় সর্ষে ছড়িয়েই যে হাঁটবে বলে ঠিক করেছে, তাকে ঘরে আটকে রাখা খুব মুশকিল! অগত্যা, দুদিনের জন্যে হলেও কোথাও যাব,এই ভেবে গন্তব্য স্থির হল “বিষ্ণুপুর”-মন্দির নগরী বিষ্ণুপুর। কিন্তু আমার চোখ খুঁজছিল বিষ্ণুপুরের অন্য রূপ।

সকাল 7:45 এর আরণ্যক এক্সপ্রেস ধরলাম শালিমার থেকে। বিষ্ণুপুর নামলাম তখন 11:25. স্টেশন থেকে রিকশা নিয়ে পৌঁছে গেলাম রাজ্য সরকারের যুব আবাসনে (youth hostel). এই দুদিন এটাই আমাদের বাসস্থান। youth hostel নতুন হয়েছে, তাই বেশ ঝাঁ চকচকে। তবে ওদের কর্মচারীর বড় অভাব দেখলাম। ব্যবস্থাপনা দেখাশোনার তেমন কোনো লোক নেই । বাড়ি থেকে একটা বিছানার চাদর নিয়ে গেলে ভালো। কারণ বিছানার চাদর খুব একটা পরিষ্কার ছিল না। গরম জল ও পাওয়া যায় নি, কারন গিজার খারাপ ছিল। তবে আমার সাথে ইলেকট্রিক কেটল আর অতিরিক্ত চাদর থাকায় সমস্যা হয়নি। youth hostel বুক করতে হয় অনলাইনে অথবা মৌলালি তে ওদের অফিসে গিয়ে। স্টেশন থেকে youth হোস্টেল অবধি রিকশা ভাড়া এমনিতে নেয় 50 টাকা। কিন্তু এই মেলার মরসুমে রিকশা ভাড়া পড়ল 70 টাকা। প্রসঙ্গত বলে রাখি এবছর বিষ্ণুপুর মেলা ছিল 23-27 ডিসেম্বর। আমি অবশ্য গেছিলাম মেলা শেষ হবার দুদিন পর, 29 শে।  লক্ষ্য ছিল শনিবারের পোড়ামাটির হাট। শান্তিনিকেতনের খোয়াই এর হাট আমার নেশা ধরিয়ে দিয়েছিল। সেই লোভেই এই হাট দেখতে আশা। দুপুরে মোনালিসা হোটেলে লাঞ্চ করতে হলো কারণ youth hostel এ খাবারের ব্যবস্থাপনা নেই। মোনালিসার খাবার খুবই সুস্বাদু এবং আয়ত্তের মধ্যেই। ভেজ থালি 70 টাকা । সাথে মাছ, মাংস, ডিম যাই নেবেন তার আলাদা দাম রয়েছে। যেমন রুই পোস্তর(এত ভালো ছিল যে লিখতে গিয়ে আবার খিদে পেয়ে যাচ্ছে) দাম50 টাকা, ডিম নিলে 40 টাকা ..এরকম। মোনালিসা থেকে বেরিয়েই একটা toto পেলাম। 2 ঘন্টায় মোট 14 টা মন্দির ঘুরিয়ে দেখাবে , 400 টাকা। অর্থাৎ ঘন্টা প্রতি 200 টাকা। বুঝলাম এটাও অতিরিক্ত চাইছে সিজন বলে। কারণ সাধারণত ঘন্টা প্রতি toto ভাড়া এখানে 150 টাকা। বাকবিতন্ডা তে না গিয়ে তাতেই রাজি হয়ে একে একে দর্শন করলাম রাসমঞ্চ, মদন মোহন মন্দির, শ্যাম রাই মন্দির,মৃন্ময়ী মন্দির, বড়পাথর দরজা, গুমঘর, লালজি মন্দির, ছিন্নমস্তা মন্দির এবং অবশেষে এসে পৌঁছালাম আমার বহু আকাঙ্খিত পোড়া মাটির হাটে। বলাই বাহুল্য দু ঘন্টায় আমার 14 টা মন্দির দেখা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। মন্দির গাত্রে টেরাকোটার কাজ যদি খুঁটিয়ে দেখতে চান, যদি প্রাণ ভরে সেগুলো কে আপনার ক্যামেরায় বন্দি করতে চান, তাহলে আমার মত আপনারও দু ঘন্টায় এত গুলো মন্দির দেখা সম্ভব হবে না। অনেকেই হয়ত বলবেন, সব মন্দির গুলোই তো একইরকম দেখতে, এতে এত সময় লাগার কি আছে?! আমি বলব , আছে, মশাই ,আছে। দেখার অনেক কিছু আছে। শুধু দেখার চোখ আর ইচ্ছে টা থাকা চাই। সেক্ষেত্রে একটা নেগেটিভ দিক হল, ওই যে, আপনার সময় কম পড়ে যাবে। এদিকে বেলা পড়ে আসছে, হাটে যাওয়ার তাড়াও আছে। কারণ ,সূয্যি ডুবলেই,হাট ভেঙে যাবে।

প্রথমেই বলে রাখি, যারা খোয়াই এর হাট ঘুরেছেন, তারা একটু হতাশ হবেন। কারণ তুলনায় এই হাট বেশ ছোট। হয়ত খুব বেশিদিন হয়নি এই হাটের জন্ম। তবু যাই হোক, শাল সোনাঝুরি গাছের জঙ্গলে পাঁপড় ভাজা আর মাটির চওড়া ভাঁড়ে চায়ে চুমুক দিয়ে লালমাটির ধুলোয় বসা এই হাট আপনাকে অনেক কিছু দেবে। পোড়ামাটির শঙ্খ, পোড়ামাটির ঘোড়া, হাতি, কাঠের ঘোড়া, গায়ের চাদর, খেস, লণ্ঠন, পোড়ামাটির গয়না, পোড়ামাটির কাপ প্লেট, মূর্তি, ফুলদানি,পেনস্ট্যান্ড এসব তো আছেই…এ ছাড়া আমার চোখ দিয়ে দেখতে চাইলে বলি, এছাড়াও কি কি আমি দেখলাম…

ছোটবেলায় ক্লাস থ্রি তে সহজ পাঠ বলে আমাদের বাংলা পাঠ্য বই ছিল। তাতে একটা গল্প ছিল “পাহাড়ি বনের হাট”। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিখ্যাত উপন্যাস “হাঁসুলি বাঁকের উপকথা ” এর অংশবিশেষ ছিল সেটি। ওই অংশবিশেষ পড়ে  আমি একরকম প্রায় পাগলের মত সন্ধান করতে থাকি পুরো উপন্যাস টির। কিন্তু ওই সময়ে আমার কাছে গল্পের বই আজকের মত এত টা সহজলভ্য ছিলনা। অবশেষে মাধ্যমিকের পর উপহার স্বরূপ সে বই আমার হাতে আসে। “পাহাড়ি বনের হাট” এর একটুকরো ছবি ছিল সেদিনের পোড়ামাটির হাট। আদিবাসী নাচ চলছে মৃদু ধামসা মাদল এর তালে, নেশা লাগছে বাঁশির সুরে। কোথাও বিক্রি হচ্ছে বীজের মালা,  কোথাও পাটের পুতুল। তেল জবজবে চুলে ফুল গুঁজেছে মেয়ে গুলো, গলায় দুলছে করণ ফুলের মালা, হাতে রুমাল, মাথায় পিতলের ঘটি। একসাথে কেমন পা পড়ছে ওদের তালে তালে! লালমাটির ধুলো ওড়াচ্ছে ওরা,ওড়াচ্ছে আমার শহুরে জীবনের একঘেয়েমি। আমার মরচে পড়া রাগ অভিমান যন্ত্রনা গুলো মাদলের দুমদুম শব্দে গুঁড়োগুঁড়ো হচ্ছে। সন্ধ্যে নামছে শাল ইউক্যালিপটাস এর জঙ্গলে। ডিমের কাঁচা কুসুমের মত কমলা সূর্য টা আজ যেন ভালো লাগার আবেশে একটু বেশি লালচে। আসলে লালমাটির আবহে সূর্যের আলো যেন আগুন জ্বালে এখানে।

আজকের দিনের মত সফর শেষ। পায়ে পায়ে হেঁটে আসতে আসতে শুনবেন পাশের ছিন্নমস্তা দেবী মন্দিরে সন্ধ্যের ঘন্টা বাজছে। রাস্তার দুধারে বড় ছোট দোকান। পোড়ামাটির ঘোড়া সার বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে। কোনো কোনো টার উচ্চতা আপনার মাথা ছাড়িয়ে আরো অনেক উঁচুতে। রয়েছে অনুষ্কা, অনুভব এর মত কিছু শাড়ির দোকান। বিষ্ণুপুরের বিখ্যাত বালুচরি স্বর্ণচরি আর বিষ্ণুপুরী সিল্কের সম্ভার সেখানে। বালুচরি শুরু 5500 থেকে আর স্বর্ণচরি 6500 থেকে, সিল্ক শাড়ি 2000 থেকে শুরু। এর পর টোটো তে করে youth হোস্টেল ফিরলাম । ভাড়া পড়ল 70 টাকা। পরদিন সকালে কি করব, কোনো প্ল্যান নেই আপাতত।

রাতে শুয়ে শুয়েই আমার পাগলামো আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। টোটো চালক দাদা কে ধরতে হবে এই পোড়ামাটির মূর্তি কোথায় তৈরি হয় সেটা দেখতে যাব, আর যাব বিকনা। ডোকরা-পোড়ামাটির দেশ এসে সেগুলো দেখব না, তা কি হয়!!! মনে মনে কতদিনের সুপ্ত ইচ্ছে আমার, বাংলার শিল্প গুলো কে কাছ থেকে খুঁটিয়ে দেখব, আজ সে সুযোগ এসেছে, হাতছাড়া হতে দেওয়া চলবে না।

প্রীতম বসুর “পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গল” যখন পড়ছিলাম , ভুলেও ভাবিনি, কিছুদিন পরেই আমি নিজে পাঁচমুড়া তে গিয়ে উপস্থিত হব। অবশেষে টোটো চালক দাদাই একটা মারুতি ওমনি ঠিক করে দিল। সারাদিনে ভাড়া পড়ল 2800 টাকা। গেলাম পাঁচমুড়া, মুকুটমণিপুর, বিকনা, আর বিষ্ণুপুর বড়কালী তলায় তাঁতি বাড়ি। প্রথমেই গেলাম পাঁচমুড়া। বিষ্ণুপুর থেকে দু ঘন্টার পথ।

পাঁচমুড়াতে গাড়ি থেকে নামতেই একটা বাচ্চা ছেলে আমাদের “এস না, এস না”করে ওর বাড়ি নিয়ে গেল। উঠোনে সাজানো ওদের সৃষ্টি। পাঁচমুড়োর প্রতিটা বাড়ির উঠোনে সাজানো ওদের শিল্পকর্ম। বাড়ির ভেতরে চলছে বালি দিয়ে  মাটি মাখার কাজ, মূর্তি গড়ার কাজ। ওদের কাছ থেকে টুকটাক কেনাকাটা সেরে চললাম মুকুটমণিপুরের উদ্দেশ্যে। পথে 100 টাকা টোল চার্জ দিতে হয়। মুকুটমণিপুর তখন লোকে লোকারণ্য। বর্ষ শেষের পিকনিকের ঢল নেমেছে সেখানে। আলপনা দেওয়া রাস্তা ধরে এগিয়ে চললাম জলাধারের দিকে। সমুদ্রের ন্যায় সুবিশাল জলরাশি। সুসজ্জিত ছোট ছোট নৌকা রয়েছে সেখানে। চাইলে টিকিট কেটে যেতে পারেন মোহনা তে যেখানে কংসাবতী ও কুমারী নদী মিলিত হয়েছে পরস্পরের সাথে। আলপনা দেয়া রাস্তার দুধারে রয়েছে সরকারি উদ্যোগে স্থায়ী 40 টি দোকান। এছাড়া রয়েছে প্রচুর হোটেল। দুপুরের খাওয়া সেখানেই সারলাম। রয়েছে একটা পার্ক। এন্ট্রি ফি দিয়ে ঢুকতে হবে। কিছুক্ষন সময় কাটলো সেখানেও।   কিন্তু এত ভিড় আমার ভালো লাগে না। রীতিমত ধাক্কাধাক্কি করা ভিড়। কলকাতার পুজোর সময় যেমন ভিড় হয় ঠিক তেমন। পায়ে পায়ে লোক। আমি চাইছিলাম এই ভিড় থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বেরোতে।

মুকুটমণিপুর এর পর আমার উত্তেজনার পারদ বেড়ে গেলো। কারণ এখন যাব বিকনা। পশ্চিমবঙ্গের গুসকরার কাছে দরিয়াপুর আর বাঁকুড়ার বিকনা এই দুই অঞ্চল ডোকরা শিল্পের উৎস। এছাড়া পুরুলিয়াতেও কম বেশি ডোকরার কাজ হয়। বিকনার এই জায়গাটার নাম “শিল্পডাঙ্গা”. এখানে অল্প কয়েকটি পরিবার রয়েছেন। ছোট্ট একটি পাড়া। এদের প্রায় সকলেরই পদবি কর্মকার। আমরা যখন পৌঁছেছি, সন্ধ্যে নামবে। সারাদিনের মূর্তি ঢালাই এর কাজ শেষ , তাই সেটা আর দেখা হল না। কিন্তু শিল্পীদের কাছে শুনলাম সেই পদ্ধতির কথা। গালা, ধুনো মিশিয়ে মোম তৈরি করে , কালোমাটি আর তুষের মিশ্রনে বানানো ছাঁচের ওপর মোমের সুতলী দিয়ে নকশা করা হয়। তারপর মাটির আস্তরণ দিয়ে ঢেকে ভাঁটি তে পোড়ানো হয়। ছাঁচের ফুটো দিয়ে ঢালা হয় তরল পিতল বা ব্রোঞ্জ। অবশেষে ভাঁটি থেকে বের করে মাটির আস্তরণ ভাঙলে পাওয়া যায় কাঙ্খিত মূর্তি বা গয়না। অসাধারণ সেই শিল্প কর্মের পেছনে লুকিয়ে থাকে এই মানুষ গুলোর কি কঠোর পরিশ্রম!! আমরা শহুরে মানুষ রা একটা মূর্তি হাতে তুলে বা নিতান্ত হেলায় একটা কানের দুল পড়ার সময় টের ও পাব না ওদের কতটা পরিশ্রমের ফসল এগুলো। ইতিহাস বইয়ের পাতায় আঁকা মহেঞ্জদড় সভ্যতার সেই নৃত্যরত মেয়েটির মূর্তির কথা মনে পড়ে?? ওটা কিন্তু ডোকরা শিল্পের ই নিদর্শন।

সন্ধ্যে প্রদীপ জ্বলে উঠল ডোকরা শিল্পীদের উঠোনের তুলসিমঞ্চে। ফেরার পথ ধরলাম আমরাও। শেষ গন্তব্য বড়কালীতলার তাঁতিবাড়ি।

রেশম সুতোয় বোনা হচ্ছে কত গল্প গাঁথা…নাম তার বালুচরি। শোনা যায় বালুচর গ্রামের নাম থেকে বালুচরি কথা টা এসেছে। রেশমের জায়গায় জড়ি সুতো হলে সেটা হবে স্বর্ণচরি। ঘটাঘট তাঁত চলছে, তাঁতি দাদা বুঝিয়ে দিলেন কোন ব্লক থেকে কিভাবে নকশা নামছে শাড়িতে। খুব বেশি সময় আর নেওয়া গেল না। সারাদিনে অনেক ধকল গেছে। এবার হোটেলে ফেরার পালা। রাতে মোনালিসা থেকে রুটি তড়কা নিয়ে হোটেলে ফিরলাম । পরদিন সকালে 7:25 এ ট্রেন। ট্রেন আসার আগে বলে দেয় স্টেশনের কোন জায়গায় কোন কোচ পড়বে। কারন ডিসপ্লে বোর্ডে কোন লেখা আসেনা vsu ছাড়া। তাই অযথা চিন্তিত হবেন না নিজের কোচ কোথায় পড়বে এই আশঙ্কায়। হোটেল থেকে toto তে স্টেশন অবধি 100 টাকা লাগলো।

আর কি, ফেরার ট্রেনে উঠে পড়লাম। চোখে লেগে রইলো মোরামের পথ ,লাল মাটির পথের ধারে  হলুদ সর্ষের ক্ষেত, খেজুর গাছে ঝোলা গুড়ের হাঁড়ি আর পথের ধারে পাটালি গুড় তৈরির ছবি গুলো। জানিনা আর আসা হবে কিনা বিষ্ণুপুর, তবে অনেক কিছু দেখা বাকি রয়ে গেল। বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গনগনি তে শিলাই নদীর ধারে নিজেকে লাল রঙে ভিজিয়ে সূর্যাস্ত দেখা হলনা, 14 টা মন্দিরের সব কটা দেখা হলো না, হল না লণ্ঠন শিল্পীদের সাথে তাদের বাড়ি গিয়ে কথা বলাও। তাই এই জন্মে আরেকবার অন্তত আসতে চাই বিষ্ণুপুরে। তাই হীরে না হলেও বিষ্ণুপুর যে আমার ভ্রমণ মুকুটের অন্যতম উজ্জ্বল মানিক, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

কে বলতে পারে, কখন ফুরিয়ে যাব। আজ আছি, কাল নেই হয়ত..তাই যতক্ষন দুটো চোখ দিয়ে প্রাণ ভরে পৃথিবীটা কে দেখে নিতে পারছি…দেখে নিতে চাই। এই আকাশ এর নীল, মাটির লাল, মেঘের সাদা, রামধনুর সাত রং ,রাতের কালো….যত.. যত রং আছে প্রকৃতিতে সব রং মেখে নিতে চাই। আর খেলা শেষের ডাক আসলে ফুরিয়ে যাবার আগে একটাই কথা বলে যেতে চাই…

“এই বাংলার মাটিতে , মাগো, জন্ম আমায় দিও।

এই আকাশ, নদী , পাহাড় -আমার বড় প্রিয়।”

আপনার রেটিং দিন:
[Total: 1 Average: 5]
আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

রেটিং ও কমেন্টস জন্য



নতুন প্রকাশিত