তাবলিগ জামাত এবং নিজামুদ্দিন মরকজ: একটি তথ্যমূলক প্রতিবেদন

প্রোজ্জ্বল বন্দোপাধ্যায়
5 রেটিং
309 পাঠক

যখন আমাদের মনে হচ্ছিল ভারত অবশেষে দ্বন্দ্ব বিতর্ক দূরে সরিয়ে এককাট্টা হচ্ছে করোনা ভাইরাসের অশ্বমেধের ঘোড়া রুখে দেওয়ার জন্য, তখনই হাজির হল নতুন এক বিতর্ক। অত্যন্ত সক্রিয় মিডিয়ার দৌলতে যে বিতর্কের কথা কারোর জানতে বাকি নেই। সেটি হল নিজামুদ্দিন মরকজে তাবলিগ জামাতের অনুষ্ঠানের কারণে করোনা ভাইরাসের সারাদেশে  ছড়িয়ে পড়া। ভারতের প্রশাসন থেকে রাজনীতি যখন উত্তাল এর কারণ এবং সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতির কথা ভেবে, তখনই সামনে এসে গেছে দুটো নাম। তাবলিগ জামাত এবং নিজামুদ্দিন মরকজ। এই দুই প্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপ নিয়ে যখন বিতর্কের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে, আমাদের অবশ্যই প্রয়োজন আছে এই দুই প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা টুকু করে রাখার। আলোচ্য নিবন্ধে আমরা জেনে নেবার চেষ্টা করব তাবলিগ  জামাত এবং তাদের পবিত্র উপাসনার জায়গা নিজামুদ্দিন সম্পর্কে। 

তাবলিগ জামাতের প্রাথমিক পরিচয়:-

এই সম্প্রদায় আদতে সুন্নি মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্গত এক ধর্মভীরু গোষ্ঠী। মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় এই গোষ্ঠীর সম্প্রসারণ হয়েছে। অমুসলিম পাঠক মাত্রই মনে করবেন হয় তো যে কোনও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এই তাবলিগ জামাতের সঙ্গে যুক্ত। আজ্ঞে না, এটি সত্য নয়। এই গোষ্ঠীটি সমগ্র সুন্নি মুসলিম গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নয়, অবশ্য খুব ছোট ও নয়। প্রায় আশি কোটি মানুষ এই সম্প্রদায়ভুক্ত। মূলত ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মুসলিম জনসাধারণের মধ্যেই এর বিস্তার। অবশ্য বর্তমানে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশেও এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। 

আবির্ভাব:-

তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মৌলানা ইলিয়াস

উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দী ঘরানার ইসলামী শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ ইলিয়াস। পূর্বেই মক্কা ভ্রমণকালে ইলিয়াস উপলব্ধি করেন ইসলামের প্রয়োগের পরিবর্তন প্রয়োজন। মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের পর থেকেই কিছুটা সরকারি নীতি, কিছুটা নিজেদের দোষেই মুসলিম সমাজ দিশাহারা ও বেপথু অবস্থায় ছিল। একইসাথে দয়ানন্দ সরস্বতী ‘ শুদ্ধি ‘ ও ‘ সংগঠন ‘ জাতীয় কর্মসূচীর মাধ্যমে অহিন্দু সমাজকে যেভাবে হিন্দুধর্মে ফেরার বার্তা দিচ্ছিলেন, সেটিও অহিন্দু সমাজে আতঙ্কের সঞ্চার করে। এসব প্রতিকূলতা থেকেই ইলিয়াস উপলব্ধি করতে শুরু করেন যে, ধর্মকে কেবলমাত্র উপাসনা ও নিয়মনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং তাকে জীবনযাত্রার মধ্যে আত্তীকরণ করাতে হবে, তবেই ঘটবে প্রকৃত উন্নতি। কিন্তু সাহারানপুরের মাজাহির উল্লুম মাদ্রাসা, যেটি ছিল তাঁর প্রথম কর্মক্ষেত্র, তাঁকে হতাশ করল কারণ সেখানে তিনি তাঁর বিশ্বাস চর্চার উপযুক্ত পরিবেশ পাননি। তিনি দিল্লিতে নিজামুদ্দিন এলাকায় চলে আসেন এবং সেখানেই তাঁর ধর্মমতের প্রকৃত পথচলা শুরু। সময়টা সম্ভবত ১৯২৬-২৭ খ্রিস্টাব্দ। 

সূচনাকালীন কার্যকলাপ মূল নীতি:

সাহারানপুরে থাকাকালীন ইলিয়াসের মূল লক্ষ্য ছিল সেখানকার অধিবাসী মূলত মেওয়াটি মুসলিমদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটিয়ে তাদের জীবনযাত্রাকে ও ইসলামের ছত্রছায়ায় এনে ফেলা। সেই কাজটি খুব বেশি করতে পারেননি সেখানে ইলিয়াস। দিল্লিতে তিনি মোটামুটি সফল হলেন বলা চলে। তাঁর সহজ সরল মতপ্রচার তৎকালীন ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের আকৃষ্ট করল। তাঁর মতামতের মূল বৈশিষ্ট্য গুলি একনজরে দেখে নেওয়া যাক:-

১। তাবলিগ সদস্যরা আধুনিকতার থেকেও বেশি গুরুত্ব দেন হজরত মহম্মদ নির্দেশিত জীবনযাত্রায়। তাই, মহম্মদের সমকালীন আরবী জীবনযাত্রায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। পোশাক থেকে শুরু করে ধর্মাচরণ, সর্বত্রই তাঁদের এই নীতি অনুসৃত হয়। কারণ, তাঁরা মনে করেন একমাত্র সেই সময়েই ইসলামের প্রকৃত রূপটি বর্তমান ছিল। 

২। ছয়টি মূল নীতি উপর দাঁড়িয়ে আছে ইসলামের এই জনপ্রিয় গোষ্ঠীর নৈতিক অবস্থান। সেগুলি হল,

ক) কলিমা:- তাঁদের মতে, মহান আল্লাহ এক ও অবিনশ্বর। তাঁর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য অবশ্য প্রয়োজন। 

খ) নামাজ:- একমাত্র কোরআন নির্দেশিত পথে উপাসনা করলেই হবে সিদ্ধিলাভ। 

গ) ইলম অথবা জিকর:- একজন মানুষের বোঝা উচিত কোনটি করণীয় আর কোনটি বর্জনীয়। এবং, তার কাছে মহান আল্লাহ কি প্রত্যাশা করেন। এই বোধের উন্মেষ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। 

ঘ) একরামুল মুসলিমিন:- সকল মুসলিম জনসাধারণের প্রতি এবং কার্যক্ষেত্রে সকল মানুষের প্রতি ভদ্র ও মার্জিত আচরণ বাঞ্ছনীয়। 

ঙ) সহি নিয়াত: মহান আল্লাহের প্রতি আস্থা রেখে জীবনযাপনে তাঁর প্রভাব নিশ্চিত করা। 

চ) দাওয়াত: মুসলিম ও অমুসলিম জনসাধারণের মধ্যে নিরন্তর আল্লাহের বানী ও তাবলিগের মতাদর্শ পৌঁছে তাদের তাবলিগের প্রতি আকৃষ্ট করা। 

৩। তাবলিগ জামাত প্রচারের আলো পছন্দ করে না। প্রচারের আড়ালেই অনুরাগীদের নিয়ে তাঁরা ধর্মীয় কাজকর্ম চালাতে পছন্দ করেন। সেজন্যই সাম্প্রতিক দিল্লির নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় সমাবেশের কাহিনীও অনেকেই জানতেন না। 

৪। তাবলিগ চাঁদা বা অনুদান নিতে চায় না। অনুরাগীদের নিজেদের আর্থিক ভার নিজেদেরই বহন করতে হয়। 

৫। যে কোনও রকম রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখে তাবলিগ জামাত। কোনও রাজনৈতিক বিষয়েই তারা কোনও অবস্থান নিতে চায় না এবং কোনও মন্তব্য ও করে না। 

৬। ভক্তদের বিষয়ে কোনও লিখিত তথ্য রাখে না তাবলিগ।

৭। সংগঠন সম্পর্কে কিছু বইপত্র থাকলেও আলাদা করে কোনও ধর্মগ্রন্থ নেই এই সম্প্রদায়ের। ইসলামের পবিত্র গ্রন্থগুলিই তাঁরা পবিত্র মনে করেন।

নিজামুদ্দিন মরকজ সংগঠনের প্রাথমিক ধারণা:-

তাবলিগ জামাতের একটি প্রার্থনার দৃশ্য

তাবলিগ প্রতিষ্ঠাতা মৌলানা মহম্মদ ইলিয়াস নিজামুদ্দিন থেকেই তাঁর কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন। হালফিলে মহা বিতর্কিত হয়ে ওঠা নিজামুদ্দিন ভারতে তাবলিগ জামাতের মূল এবং সর্বাপেক্ষা পবিত্র ধর্ম কেন্দ্র। শুধুমাত্র ভারত নয়, পৃথিবীব্যাপী সংগঠনের কাজ পরিচালিত হয় এখান থেকেই। দক্ষিণ দিল্লিতে অবস্থিত এই নিজামুদ্দিন মরকজেই সাম্প্রতিক সময়ে বার্ষিক উপাসনা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, যা প্রতিবছর হয়ে থাকে। অত্যধিক জনসমাগমের কারণে এখানে মরকজ লাগোয়া পুলিশ স্টেশন ও অবস্থিত। শুধুমাত্র নিজামুদ্দিন নয়, প্রতিটি দেশেই একটি করে মূল কেন্দ্র থাকে এই সংগঠনের, যার দায়িত্বে থাকে বিশ্বস্ত কিছু কর্মঠ স্বেচ্ছাসেবক।

              দীর্ঘদিন পর্যন্ত তাবলিগ জামাতের প্রধানকে আমির হিসেবে চিহ্নিত করা হত। প্রতিষ্ঠাতা মৌলানা মহম্মদ ইলিয়াস ছিলেন প্রথম আমির। নব্বইয়ের দশকে বয়জ্যেষ্ঠ ও পণ্ডিত ধর্মগুরুদের নিয়ে শুরা গঠিত হয় যাদের উপর আমির নির্বাচনের ভার পড়ে। তবে, তাঁরা স্থায়ী আমিরের পরিবর্তে শুরার সদস্যদের ভিতর থেকেই রোটেশন পদ্ধতিতে প্রধান নিয়োগে আস্থা প্রকাশ করেন। বর্তমানে সংগঠনের প্রধান মৌলানা সাদ, যাঁর নাম আমরা সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দেখতে পাচ্ছি। 

ধর্মপ্রচার যাত্রা:- 

আমরা সংবাদপত্রে প্রায়শই দেখতে পাচ্ছি যে, দিল্লির সমাবেশের পর তাবলিগ জামাতের সদস্যদের দেশের নানা প্রান্তের মসজিদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাবলিগের ইতিহাস বলছে, এটার সুনির্দিষ্ট কারণ আছে। তাবলিগ ধর্মগুরুদের বছরে ১২০ বা ১৫০ দিন নানা প্রান্তে ধর্মপ্রচারের পরামর্শ দেওয়া হয়। এবং, তাঁরা যেখানে প্রচারে যান, সেই এলাকার তাবলিগি মসজিদে তাঁদের প্রচারকালে থাকার ব্যবস্থা হয়। একজন বা কিছু স্থানীয় তাবলিগি নেতৃস্থানীয় মানুষ এঁদের গাইড হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ধর্মপ্রচারে নিয়ে যান। সাদা বস্ত্র পরিধান করে ধর্মগুরুরা স্থানীয় মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের মধ্যে ধর্মপ্রচার করেন এবং মসজিদে তাঁদের সাথে একত্রে মাগরিব প্রার্থনায় আহ্বান জানান। সেই প্রার্থনায় ইসলাম ধর্মের তত্ত্ব এবং তাবলিগ সম্প্রদায়ের মতাদর্শ সম্বন্ধে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে তাবলিগ নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পালন করার চেষ্টা করেন, কারণ এটাই প্রচারবিমুখ এই সম্প্রদায়ের এটিই প্রচারের একমাত্র পন্থা। মূলত মুসলিম জনসাধারণের মধ্যেই এই প্রচারানুষ্ঠান হলেও অমুসলিম এলাকায়ও কখনও কখনও তাবলিগ কর্মসূচী নিয়ে থাকে। যদিও মূলত মুসলিম জনসাধারণই এই কর্মসূচীর মূল লক্ষ্য। 

তাবলিগ জামাতের বর্তমান প্রধান মৌলানা সাদ

সমালোচনা সীমাবদ্ধতা:

১। অনেক সমালোচক মনে করেন যে, মধ্যযুগের আরবী সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান আদতে আধুনিকতা বিরোধী এবং দেশীয় বৈশিষ্ট্য রক্ষার পরিপন্থী। 

২। অনেকে বিশ্বাস করেন, নারীরা ভীষণ ভাবে পরাধীন এই মতবাদে, কারণ নারীদের ঘরের অভ্যন্তরে থাকার এবং পুরুষদের মতানুযায়ী জীবন যাপন করার আদেশ দেওয়া হয়, যা আদতে মনোবিজ্ঞানের বিরোধী। লিঙ্গবৈষম্য আধুনিক সমাজ যেখানে অস্বীকার করে, তখন কিভাবে সেটির উৎসাহ দেওয়া হয় সেটি বিতর্কের বিষয়। যদিও তাবলিগ কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিককালে নারীদের ধর্মীয় প্রচারের কাজে লাগাতে শুরু করেছেন, কিছুক্ষেত্রে কোনও পুরুষ আত্মীয়ের সাথে নারীদের উপাসনার স্থানে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়। কিন্তু অবশ্যই পুরুষতান্ত্রিকতা এই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীষণভাবে উপস্থিত। 

৩। অনেক সমাজবিজ্ঞানী মনে করেন, ধর্মের অত্যধিক হস্তক্ষেপে ব্যক্তিস্বাধীনতা নষ্ট হয়। এই মতবাদকে অত্যধিক গোঁড়া বলেও মনে করেন বহু পন্ডিত।

৪। ইসলাম ধর্মের ভিতর থেকেই এই সম্প্রদায়ের মধ্যে আওয়াজ উঠেছে। সৌদি আরবের প্রাক্তন গ্র্যান্ড মুফতি আবদুল আজিজ ইবন বাজ মনে করেন, ইসলামের মূল আদর্শের থেকে তাবলিগের কার্যকলাপ কিছুক্ষেত্রে পৃথক। অনেক ইসলামিক পণ্ডিত আবার এই মতবাদকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। 

৫। মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকে বিশ্বাস করেন রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার যুক্তি দেখিয়ে রাজনৈতিক কারণে মুসলিম নির্যাতনের সময়েও কুলুপ এঁটে থাকে তাবলিগ।

৬। আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের বেশ কিছু গোয়েন্দা তদন্তে দাবি করা হয় যে, উপরে উপরে নিরপেক্ষ থাকলেও কিছু তাবলিগ সদস্য ধর্মীয় চরমপন্থী বিভিন্ন দল, এমনকি জঙ্গি সংগঠনের সাথেও গোপনে যুক্ত। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ তদন্ত নব্বইয়ের দশকে বেনজির ভুট্টোর সরকারের বিরুদ্ধে সংঘটিত অভ্যুত্থানের পিছনে এই সম্প্রদায়ের উস্কানিকে দায়ী করেছিলেন। এও অভিযোগ করা হয়, দেশের তরুণ প্রজন্মের মনে সাম্প্রদায়িক বিষ ঢালছে এই সম্প্রদায়। ফলস্বরূপ, পাকিস্তানের অন্তর্গত পাঞ্জাবে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তাবলিগের প্রচার নিষিদ্ধ হয়। 

নিজামুদ্দিন মরকজ

৭। অনেকে বলেন, এই সম্প্রদায়ের মতামত সরাসরি ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে, সহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে। যদিও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাবলিগ সম্প্রদায় তা অস্বীকার করেছেন এবং পাল্টা দাবি করেছেন তাঁরা কখনোই দেশের সংবিধান বিরোধী কাজ করেননি।

প্রতিবেদক তথা শাব্দিক পত্রিকার বক্তব্য:

এই প্রতিবেদনটি একটি তথ্যমূলক প্রতিবেদন। সাম্প্রতিক বিতর্কে কোনও নতুন মাত্রা যুক্ত করার অভিপ্রায় আমাদের নেই। ভারত তথা বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের এই সংগঠনের ইতিহাস ও স্বরূপ সম্পর্কে কোনও ধারণা না থাকায় শাব্দিক এই তথ্যমূলক নিবন্ধটি পাঠকের সামনে হাজির করল। মুসলিম সম্প্রদায়ের সকল মানুষই তাবলিগ জামাতের অনুসারী নন। আবার, তাবলিগ জামাতের সকল অনুসারী বা নিজামুদ্দিন মরকজে হাজির সকল ধর্মপ্রাণ মানুষই অপরাধী এই সরলীকরণের পক্ষপাতী নয় শাব্দিক। সেই জন্যই এই সংগঠনের ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিক আদর্শ বিষয়ক আলোচনা প্রকাশ করা হল। দেশের সংবিধানে আস্থা রেখে শাব্দিক ঘটনায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করে এবং একইসাথে জনগণের কাছে ধর্মীয় উস্কানিমূলক গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ রাখে। পত্রিকা বিশ্বাস রাখে, জাত ধর্ম বর্ণ দল নির্বিশেষে সকল ভারতবাসীর মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের দেশ করোনা যুদ্ধে জয়ী হবে।

আপনার রেটিং দিন:
[Total: 1 Average: 5]
আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

রেটিং ও কমেন্টস জন্য



নতুন প্রকাশিত