শ্বেতকরবীর গুচ্ছ

রুদ্র প্রাসাদ সিনহা
3 রেটিং
235 পাঠক
রেটিং দিন
[মোট : 2 , গড়ে : 3]

পাঠকদের পছন্দ

চারদিকে একটা থমথমে ভাব।বাতাস ও যেন থমকে গেছে। মনে মনে গুমরে ওঠা কান্নার প্রকাশের অনুমতি নেই। হ্যাঁ, এমনটাই কথা ছিলো। নন্দিনী বলেছিলো সকলকে, তার মৃত্যু হবে এক উৎসব। তার জীবনও ছিল এক উৎসব। আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে সে নিখুঁত ক’রে গ’ড়ে তুলেছিল তার অপেক্ষার মুহূর্ত গুলিকে……
কয়েক ঘন্টা আগে হঠাৎই ঘুমের মাঝে থেমে গেছে নন্দিনীর হৃদস্পন্দন। ঘুম তাকে নিয়ে গেছে নিত্য জাগরণের দেশে। ভালোবাসার নিত্যপ্রকাশ সে জগতে। জীবন জীবনকে টানে, ফুল ফুলকে আকর্ষিত করে।  খুব ফুল ভালোবাসতো নন্দিনী। তার জীবনের উদ্যানটিকেও সে তিল তিল ক’রে রচনা করেছিল রঞ্জনের জন্য অপেক্ষার কুসুমসম্ভারে। বারি সিঞ্চন করেছিল সন্ধ্যার উদাস অস্তরাগে।
 সংস্কারের উপকরণ তৈরি। কেউ কেউ তখনও শেষ  শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে।আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সে চলে যাবে শ্মশানপুরী। দেহ তার  শুভ্র সুরভিত যূথীকায়  সজ্জিত। তখনও নিস্পন্দ বক্ষে অলক্ষে জেগে আছে অপেক্ষা।
ভিড়ের ভিতর দিয়ে পথ ক’রে নিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে এলো রঞ্জন, হাতে এক গুচ্ছ সাদা করবীফুল। নামিয়ে রাখলো নন্দিনীর বুকের উপর। চোখ থেকে ঝ’রে পড়লো একফোঁটা জল। তাই দেখে কেউ যেন  বলে উঠলো…. “কাঁদবেন না প্লিজ! ওকে আমরা কথা দিয়েছি, ওর মৃত্যু হবে উৎসব।” অস্বস্তি কাটিয়ে, রঞ্জন চোখ মুছে স’রে এলো, জিজ্ঞাসা করলো হঠাৎ কি ক’রে এমন…?
কিন্তু নন্দিনীর মুখের ওপর থেকে কিছুতেই চোখ সরছিলো না তার। সে মুখে কোনো অভিমান নেই, নেই কোনো অনুতাপ। আছে শুধু অসীম উদ্বেগহীন প্রতীক্ষা। কত কি যেন বলার ছিলো তার , বলা হয়নি। রঞ্জনের বুকের ভিতর  কান্নার সমুদ্র আছড়ে পড়ছিলো। চিৎকার ক’রে বলতে চাইছিলো সে, “এখনি যেও না, ফিরে এসো, ফিরে এসো…. ‘নন্দিনী ‘… “
কোনো উত্তর এলোনা। একরাশ শীতল বাতাস নন্দিনীর হৃদয় থেকে উঠে এসে বয়ে গেল রঞ্জনের এলোমেলো চুলের উপর দিয়ে। যেন ব’লে গেল, “আমি আছি রঞ্জন…..হয়তো এখনই সবথেকে স্পষ্ট হ’য়ে আছি তোমার হৃদয়ে…দুঃখ ক’রো না। মৃত্যু তো শরীরের; আমার ভালোবাসা যে আত্মিক! আত্মার কি মৃত্যু হয় ? ” 
‘রঞ্জন’ এই নামটা নন্দিনীরই দেওয়া তাই সেও নিজে নন্দিনী। সেই যেবার অসুস্থ শরীরে, বিষন্ন মনে রঞ্জন ভোগ করেছিল বিষাদ অমল-বেলা ; মনে মনে অপেক্ষা করছিল ফুল হাতে আসা কোনো সুধার, তখনই ঝড়ের মত এসেছিল সেই বার্তা…..আমি সুধা নই গো  নন্দিনী! আমি দুর্বার প্রলয়ে ধ্বংস ক’রে দিতে জানি ব্যাধিময় বার্ধক্য।  প্রতিষ্ঠা ক’রে দিতে পারি নবযৌবন! মৃত গুঁড়ির বক্ষ বিদীর্ণ ক’রে সৃষ্টি করতে পারি নব অঙ্কুর। আনন্দে ভরপুর প্রাণোচ্ছ্বল জীবন যৌবনের প্রতীক সে-ই  রক্তকরবীর ‘নন্দিনী’! আর তুমি ‘রঞ্জন’…. আমার চির প্রতীক্ষা!!
নন্দিনী কথা দিয়েছিলো রঞ্জনকে , সে কোনোদিন তার ভালোবাসাকে ছেড়ে দূরে যাবে  না। প্রত্যাখ্যাত হলেও না। কারণ সে ভালো বাসে শুধুই ভালো বাসার জন্য। কোনো স্বার্থ নেই, কোনো চাওয়া -পাওয়া নেই সে ভালোবাসায়। শুধুই দেওয়ার আনন্দে পূর্ণ সে। প্রেম তার শখ নয়। তার অন্তর্নিহিত সত্ত্বা। তাই তো সকাল সন্ধ্যা আপন মনে গুন্ গুন্ করে, ” প্রেম আনন্দে রাখো পূর্ণ আমারে দিবস রাত”….আপন মনে বিরহ বেদনায় আপনি কেঁদে গায়” দিবস রজনী আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি”…
সারাদিন রঞ্জনের পথ চেয়ে থাকা নন্দিনী যেমন ভাবতো, আজ তার রঞ্জন আসবে, এই পথ দিয়েই সে যাবে… সে থাকতো রঞ্জনের প্রতীক্ষায়, বিশু পাগল, কিশোর এমন কি রাজাও নন্দিনীর সান্নিধ্য চাইতো…নন্দিনী যে প্রাণের প্রতীক!!!  কিন্তু নন্দিনী? সে রাজার (সংসারের) কঠিন নিয়মের বিরুদ্ধে যেতে পারে, সব কিছুকে উপেক্ষা করতে পারে তার রঞ্জনের জন্য। সে ও রক্তকরবীর নন্দিনীর মতোই ভালোবাসে করবীর ফুলে সাজতে, তবে সে ফুলের বর্ণ শুভ্র, তার রঞ্জনের পবিত্র  ভালোবাসার প্রতীক। তাই তো  সেই ফুলের মালা গেঁথে সে খোঁপায় জড়াতে ভালবাসত….
আর ভালবাসত  নদীর ধারের ওই বুড়ো বটের ঘনছায়ায় ঘেরা জায়গাটা। কত কী যে ভাবত সে এখানে ব’সে ব’সে! গাছের ঝুরি গুলোকে তার মনে হতো যেন সেই বটবুড়োর গাল বেয়ে নেমে আসা মুখভর্তি দাড়ি, যা তার সারা শরীরকে আড়াল ক’রে রেখেছে।গাছটাকে দেখতে দেখতে বড়ো হওয়া নন্দিনী যখনই এসেছে এখানে, অবাক বিস্ময়ে চেয়ে থেকেছে ওর দিকে। আর সেই গাছ তখন তাকে প্রবৃদ্ধপিতামহীর মতো সুশীতল ছায়ার আঁচলে  জড়িয়ে নিয়েছে । সারা গায়ে  বুলিয়ে দিয়েছে স্নিগ্ধ ছায়াময় শান্তির প্রলেপ। 
নন্দিনী অদূরের উঁচু টিলার ওপর উঠে ব’সে থেকেছে রোজ সকাল থেকে। সেখান থেকে দূরের মানুষ গুলোর আনাগোনা দেখা যায়। সবার জন্য তো তার মাথা ব্যথা নেই, সে কেবলই পথ চেয়ে থাকে তার রঞ্জনের। রঞ্জন কাজ শেষে এই পথেই ফেরে যে। কিন্তু ঐ সূর্যটা যেন যক্ষপুরীর রাজা। সে চায় না রঞ্জনের সাথে নন্দিনীর দেখা হোক। প্রখর তাপে নন্দিনীর মুখ জ্বলে ওঠে, তার খোঁপার করবীফুল নেতিয়ে পড়ে। তবুও তার অপেক্ষা। আর যখন রঞ্জন এপথে যেতে যেতে তার দিকে ফিরেও চায় না, সে তখন আনমনে পায়ে পায়ে আসে নদীর ঘাটে। ঘাটের পৈঠায় পা রেখে ব’সে ভেবে  রঞ্জনেরই কথা। নদী তীরের স্নিগ্ধ বাতাস তার তপ্ত কপাল ছুঁয়ে যায় ; তার ক্লান্ত দু’চোখে ঘুম নামে। গাছের কোটর থেকে শিস্ দিয়ে ওঠা দোয়েল পাখিটা যেন পাগল বিশুর মতোই যেন গেয়ে ওঠে, “তোমায় গান শোনাবো, ওগো দুখ জাগানিয়া! ”  নদীর জল ছলছল করতে করতে অনুরাগী কিশোরের মতো তার পা ধুইয়ে দিয়ে যায়। ঘুমিয়ে পড়ে নন্দিনী। দু’চোখের পথ ঘিরে চলে স্বপ্নের মিছিল। সেখানেও তার শুধু  একটি মুখেরই খোঁজ , তার জনম জন্মান্তরের ভালবাসার। তার সেই একটি অপেক্ষার নাম “রঞ্জন”। একদিন নিজেই সে বলেছিল কথাগুলো….. 
রঞ্জন হলো সেই পবিত্র ভাব যা কবির হৃদয়ে প্রবেশ করলে কবিতার জন্ম হয়, আর লিখতে লিখতে হঠাৎ একটি লেখা দৃপ্ত স্বরে মানুষকে আহ্বান ক’রে বলে, “শৃন্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্রা …..” সেই লেখাটিই নন্দিনী!
“চলো চলো বডি তোলো”………কোলাহলে ভাবনার জাল ছিন্ন হলো। রঞ্জন চেয়ে দেখলো নন্দিনী চ’লে যেতে যেতে যেন হাসছে তারই দিকে চেয়ে আর তারই কথায় “মিষ্টি করে” বলছে  “আসি কেমন? আমার যাওয়া তো নয় যাওয়া…. আমি তোমার বুকের ভিতর আছি গো, হাত রেখে দেখো, ঠিক ছোঁয়া পাবে!”
তার  হাতে জড়িয়ে আছে রঞ্জনের  দেওয়া শ্বেতকরবীর গুচ্ছ…..
নন্দিনী চ’লেছে অন্তিম যাত্রায় , সেই গন্তব্যে যেখানে একে একে সকলকেই যেতে হবে একদিন। রাজা, বিশু, কিশোর আর তার প্রিয় রঞ্জন;  কেউ বাদ যাবে না।
 রঞ্জন চেয়ে আছে সেই পথের দিকে উদাস দৃষ্টিতে। সকলেই নন্দিনীর ইচ্ছার সম্মান রেখেছে, আত্মপরিজন, বন্ধু বা প্রতিবেশী কেউই চোখের জলকে পাতার বাইরে আসতে দেয়নি। নীরব উৎসবই হ’য়ে উঠেছে তার বিদায় সমারোহ।  
রঞ্জনের দেওয়া করবীর গুচ্ছ নন্দিনীর হাত ছুঁয়ে বুকের ওপর লুটিয়ে আছে,ওগুলো তো কেবলই ফুল নয়, রঞ্জনের অব্যক্ত সবুজ প্রেমের অঞ্জলি! তার ব্যাকুলতার অভিব্যক্তি; যে ব্যাকুলতা থেকেই জন্ম- জন্মান্তরে বারংবার জন্ম নিয়েছে নন্দিনী। এ ব্যাকুলতা মিলনের নয়। তার একান্ত আত্মনিবেদনের।
রঞ্জনের চোখ থেকে ঝ’রে পড়া একফোঁটা জল নন্দিনীর কপালের শুকনো কুমকুমের সাথে মিশে তার লালিমাকে আরও উজ্জ্বল ক’রে তুলেছে। ঘুমন্ত নন্দিনীর বুকে ফুলের গোছা রাখতে গিয়ে তার মুখের দিকে চেয়ে  রঞ্জনের মনে হয়েছিল নন্দিনীর মুদিত দু’চোখ তার দর্শন পরশে এখনই শিশির ছোঁয়া পদ্মের মতো খুলে যাবে, ঠিক তখনই তার অজ্ঞাতে একদানা তরল মুক্ত গড়িয়ে পড়ে নন্দিনীর কপালে। হ্যাঁ, সেই একটামাত্র ফোঁটাই ঝ’রেছিল রঞ্জনের চোখ থেকে আর অঝরা বাকিটা ঝ’রিয়ে দিল আকাশ। সবের অলখে কোথাও একান্তে নীরবে মিলছে দুটি হৃদয়ের নদী। সকাল থেকে থমকে থাকা বাতাস  হঠাৎই ছুটলো দিশাহীন এলোমেলো হ’য়ে। বৃষ্টি ঝ’রেছে অঝোর ধারায়, রঞ্জন জানে এ  কেবলই বৃষ্টি নয়, নন্দিনীর বিশুদ্ধ প্রেম ঝ’রছে আকুল হ’য়ে। ভিজিয়ে দিচ্ছে তাকে, তাকে জাগিয়ে দিচ্ছে। 
নন্দিনী এখন আকাশ। রঞ্জন তার পৃথিবী। দ্যুলোকের মধ্যবর্তী শ্যামলিমার নাম ভালোবাসা।
নন্দিনীর ভালবাসার অপেক্ষার নাম যেমন ‘রঞ্জন’, তেমনই  প্রাপ্তির নাম ‘রাজর্ষি’। এই রাজর্ষি রূপ শুধু  নন্দিনীর মনেই মূর্ত।শ্বেতকরবীর মতো শুভ্র বেশ, রৌদ্রের মতো উজ্জ্বল কান্তি, স্মিতহাস সুন্দরের সে সৌম্য দিব্য মূর্তি নন্দিনীর আরাধ্য প্রিয়তমের।সে-ই কখনো রঞ্জন কখনো রাজর্ষি! নন্দিনীর পবিত্র প্রেম!
 অন্তিম লগ্নে নন্দিনীর আর কোনো  অপেক্ষা ছিল না। অপেক্ষা তার পূজা।পূজা শেষে সে একাত্ম। আপন হৃদয় মাঝে প্রিয় মিলনের আনন্দ বিহ্বলিত নিত্য দিন যাপন তার। সে অন্তরে গভীর ভাবে অনুভব করেছে রঞ্জনের ভালবাসা। সেই ভালবাসা কখনো কৃষ্ণা একাদশীর চাঁদের মতো গভীর রাতে মৃদু জ্যোৎস্না হ’য়ে নন্দিনীর বিছানায় আসে, তার সারা অঙ্গ আদরে জড়িয়ে ঘুম পাড়ায়, কখনো ঊষার শুকতারা হ’য়ে চোখের পাতায় চুম দিয়ে যায়, ভোরের দোয়েল হ’য়ে মিষ্টি সুরে ঘুম ভাঙায়। এই  সব সব কিছুর মাঝে একমাত্র রঞ্জনকেই উপলব্ধি করেছে নন্দিনী….


  শ্মশান যাত্রীরা চ’লে গেছে অনেকক্ষণ। বাড়িতে জমা ভিড় এখন অনেকটাই হালকা। একটু বেলায় বৃষ্টি ধরে এলেও বেশ ঝিরিঝিরি ঝরছিল। কারও নিষেধ না শুনেই রঞ্জন বেরিয়ে পড়ল বাড়ি ফিরে যেতে। বাইরে তখনও বেশ বৃষ্টি পড়ছে। মাথার চুল বেয়ে গড়িয়ে পড়া জল কখন যেন চোখের পাতা ধুয়ে দিয়ে গেল।  নিমেষেই ভিজে যাওয়া  পাঞ্জাবিটা গায়ে লেপ্টে গেল, সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই তার। মনের ভিতর একটাই কথা উঠছে বারবার, একবার যদি নন্দিনী ফিরে আসত, যদি আর একটি বার সে চোখ মেলে চাইত! তবে তার না বলা যে কথাটা নন্দিনী একটি বার  শুনতে চেয়েছে, ফিরে এলে সে তাকে বুকে জড়িয়ে ধ’রে কানে কানে সেকথা স্পষ্ট স্বরে বলতে আর কোনো দ্বিধা করবে না। হ্যাঁ সে বলবেই এবার। আর তাই কতকটা স্বগতভাবেই সে বলল, “জানি সম্ভব নয়, তবুও ফিরে এসো, একবার ফিরে এসো নন্দিনী, আমিও যে খুব ভালবাসি তোমায়! “
 একঝলক ভিজে হাওয়া রঞ্জনের গাল ছুঁয়ে মুছে দিয়ে গেল চোখের ভিজে পাতা। তার মনে হলো এ যেন নন্দিনীরই শীতল করস্পর্শ !
 আজ আর কোথাও কোনো  উষ্ণতা নেই; না মনে না বনে। সূর্য ও যেন বেদনায় মুখ ঢেকেছে মেঘের আড়ালে।বাতাসে বিষন্নতা। 
আনমনা রঞ্জন  কখন যেন বাড়ির সদর দরজা পেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে উঠোনের ঝরা ফুলগুলোর কাছে। নিভৃত মনের তন্ত্রে তন্ত্রে শুধু  বেদনারই অনুরণন,
“উঠানে শূণ্য কলসীর কাছেসারাদিন ধ’রে ঝ’রে প’ড়ে আছেতোমার দোপাটি গাঁদা ফুলগুলিযেন অভিমান ভরে…..”
বৃষ্টি থেমে গেছে। শ্বেতকরবী গাছটার নীচে খানিকটা জল দাঁড়িয়ে আছে। ঝোড়ো বাতাসে জলে উঠছে মৃদু ঢেউ। ঢেউগুলো রঞ্জনকে ডাকছে যেন। এগিয়ে গেলো রঞ্জন। তার  দুটি পা বুক পেতে নিল সেই জল। মুখ বাড়িয়ে দিল রঞ্জন। জলে তার মুখের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। বিস্ময়ে প্রথমে চমকে উঠলো সে! ক্রমে কেটে গেল বিস্ময়। স্পষ্ট দেখলো সে প্রতিচ্ছবি রঞ্জনের নয়, নন্দিনীর। তার সকল বিরহ বেদনা কেটে গেল। কর্পূরের মত উবে গেল যেন। মনটা আনন্দে ভ’রে উঠলো। যে কথাটা নন্দিনী বলতে চেয়েছিল সেটা এখন স্পষ্ট তার কাছে। কোনো সন্দেহ নেই, কোনো দুঃখ নেই, কোনো কুয়াশা নেই। নন্দিনীর মৃত্যু হয়নি। সে বেঁচে আছে রঞ্জনের মধ্যে। যে রঞ্জন সেই নন্দিনী। জীবন যে পর্দায় দু’জনকে আলাদা ক’রে রেখেছিল মৃত্যু এসে সেটা সরিয়ে নিল।।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

রেটিং ও কমেন্টস জন্য



নতুন প্রকাশিত

হোম
শ্রেণী
লিখুন
প্রোফাইল