শারদ প্রতিবেদন (পর্ব-১)

অর্পণ (শঙ্খচিল) ভট্টাচার্য্য
5 রেটিং
1243 পাঠক
রেটিং দিন
[মোট : 1 , গড়ে : 5]

পাঠকদের পছন্দ

বহু পাঠক/পাঠিকার কাছে বহুল সমাদৃত হলেও প্রথমবার বাঙালির জনপ্রিয় ই-পত্রিকা শাব্দিকে কথামতো আজ থেকে চালু করলাম বিশেষ আলোচনা #শারদ_প্রতিবেদন,বাঙালী তথা বিশ্বের সব থেকে বড় উৎসব শারদীয়া নিয়ে নানা জানা অজানা তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করবো..প্যান্ডেলে পুজো দেখা,জমিয়ে আড্ডা হই হুল্লোড়,সাথে অবসরে পড়তে থাকুন শারদ প্রতিবেদন..

আশা করি আপনাদের ভালোই লাগবে;সমৃদ্ধ ও হবেন..মতামত জানাবেন
মহালয়া,তর্পন ও পিতৃ তর্পনঃ
💠পিতৃপক্ষ
” ওঁ পিতা স্বর্গঃ পিতা ধর্ম পিতা হি পরমন্তপঃ ।।
পিতরি প্রীতিমাপন্নে প্রীয়ন্তে সর্বদেবতাঃ ।।”
পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে পার্বন শ্রাদ্ধ ও তর্পণ করার অনুষ্ঠান বা রীতিই হল পিতৃপক্ষ। এই পক্ষ ষোলোশ্রাদ্ধ, কানাপাত, জিতিয়া মহালয়াপক্ষ নামেও পরিচিত।।এই পক্ষ সূচিত হয় প্রধানতঃ দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে গণেশ উৎসবের পরবর্তী পূর্ণিমা তিথিতে। শেষ হয় মহালয়া অমাবস্যা তিথিতে। অন্যদিকে, উত্তর ভারত ও নেপালে ভাদ্রের পরিবর্তে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষকে পিতৃপক্ষ বলা হয়।
জলদানের মাধ্যেমে পিতৃলোকের তৃপ্তিসাধনই হল তর্পণ বিধি। পুত্র কর্তৃক শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সনাতন ধর্মে অবশ্য করণীয় একটি অনুষ্ঠান।
মহালয়া পক্ষ সাধারণত পনেরোটি তিথিতে বিভক্ত। সেগুলি হল, প্রতিপদ, দ্বিতীয়, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী,ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী,দশমী, একাদশী, দ্বাদশী, ত্রয়োদশী, চতুর্দশী ও অমাবশ্যা। ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি তর্পণে ইচ্ছুক হন, তাকে তার পিতার মৃত্যুর তিথিতে তর্পণ করতে হয়।
সর্বপিতৃ অমাবস্যা দিবসে তিথির নিয়মের বাইরে সকল পূর্বপুরুষেরই শ্রাদ্ধ করা হয়।। যারা নির্দিষ্ট দিনে শ্রাদ্ধ করতে ভুলে যান, তারা এই দিন শ্রাদ্ধ করতে পারেন। এই দিন গয়ায় শ্রাদ্ধ করলে তা বিশেষ ফলপ্রসূ হয়। উল্লেখ্য, গয়ায় সমগ্র পিতৃপক্ষ জুড়ে মেলা চলে।। বাংলায় মহালয়ার দিন দুর্গাপূজার সূচনা হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে আবির্ভূতা হন। মহালয়ার দিন অতি প্রত্যুষে চণ্ডীপাঠ করার রীতি রয়েছে।। আশ্বিন শুক্লা প্রতিপদ তিথিতে দৌহিত্র মাতামহের তর্পণ করেন।

💠তর্পণ বিধি
শ্রাদ্ধকর্তাকে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে ধুতি পরে শ্রাদ্ধ করতে হয়। শ্রাদ্ধের পূর্বে তিনি কুশাঙ্গুরীয় (কুশ ঘাসের আঙটি) ধারণ করেন। এরপর সেই আঙটিতে পূর্বপুরুষদের আবাহন করা হয়। শ্রাদ্ধ খালি গায়ে করতে হয়, কারণ শ্রাদ্ধ চলাকালীন যজ্ঞোপবীতের অবস্থান বারংবার পরিবর্তন করতে হয়। শ্রাদ্ধের সময় সিদ্ধ অন্ন, ময়দা, ঘি ও তিল দিয়ে মাখিয়ে পিণ্ডের আকারে উৎসর্গ করা হয়। একে পিণ্ডদান বলে। এরপর দুর্বাঘাস, শালগ্রাম শিলা বা স্বর্ণমূর্তিতে বিষ্ণু এবং যমের পূজা করা হয়। এরপর পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়।
কোনো কোনো পরিবারে পিতৃপক্ষে ভাগবত পুরাণ, ভগবদ্গীতা বা শ্রীশ্রীচণ্ডী পাঠ করা হয়। অনেকে পূর্বপুরুষের মঙ্গল কামনায় ব্রাহ্মণদের দান করেন।পূর্বপুরুষকে যে খাদ্য উৎসর্গ করা হয়, তা সাধারণত রান্না করে রুপো বা তামার পাত্রে কলাপাতার উপর দেওয়া হয়। এই খাদ্যগুলি হল ক্ষীর, লপসি, ভাত, ডাল, গুড় ও কুমড়ো।
মার্কণ্ডেয় পুরাণ গ্রন্থে বলা হয়েছে, পিতৃগণ শ্রাদ্ধে তুষ্ট হলে স্বাস্থ্য, ধন, জ্ঞান ও দীর্ঘায়ু এবং পরিশেষে উত্তরপুরুষকে স্বর্গ ও মোক্ষ প্রদান করেন। পুরাতাত্ত্বিক উষা মেননের মতেও, পিতৃপক্ষ বংশের বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে। এই পক্ষে বংশের বর্তমান প্রজন্ম পূর্বপুরুষের নাম স্মরণ করে তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পিতৃপুরুষের ঋণ হিন্দুধর্মে পিতৃমাতৃঋণ অথবা গুরুঋণের সমান গুরুত্বপূর্ণ। 

💠মহালয়া কেন শুভ নয়?
পুরাণ বিশেষজ্ঞ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ির মতে মহালয়া শুভ নয়।আর মহালয়ার সঙ্গে দুর্গাপুজোর কোন সম্পর্কই নেই। কারণ, এই দুর্গাপুজোটাই অকালের পুজো। বসন্তকালের জায়গায় শরৎকালে। ফলে মহালয়া আর পুজোর ধারণাটাই তেল-জল ব্যাপার, মেশার কথাই নয়। উনি যা বললেন:

“এটা মিথলজিক্যলি ভুল। এটা যে দেবীপক্ষের শুরু, এই ভাবটা আসতে শুরু করেছে। কিন্তু মহালয়াটা দেবীপক্ষের শুরু নয়। প্রতিপক্ষে (বা, প্রতিপদে – যাকে অনেকেই ভুল করে “প্রথমা” বলে দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী-র আগে…) দেবীপক্ষের শুরু হয়। মহালয়াটা পিতৃপক্ষের শেষ। এটা সেই হিসেবে একটা বিরহের দিন। পিতৃলোকের সঙ্গে মর্ত্যলোকের সংযোগের দিন। শাস্ত্রমতে পরলোকগত পিতৃপুরুষেরা এই দিনে পিতৃলোক ছেড়ে অনেক নিচে নেমে আসেন বর্তমান পুরুষদের তর্পণ আর পুজো নেওয়ার জন্য। ফলে, মর্ত্যলোকের কাছে তাঁদের একটা বিরাট আলয় বা আবাস তৈরি হয়। তাই, মহা + আলয় – মহালয়। আর, তিথি হিসেবে স্ত্রীলিঙ্গ – তাই শেষে আ-কার যোগ হয়ে মহালয়া। তাই, শুভ মহালয়া না বলে “শুভ পুজো” বলাটাই ভালো।
আর, আজকের এই বিরহের দিনটাকে এইরকম শুভ না বলতে চাইলেও বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র মহয়াশয় এমনই অসাধারণ একটা কাজ করে গেছেন, যে ধন্যবাদটা তাঁকে না দিলেই নয়। একটা লোক তার কাজের জন্য মিথ হয়ে যেতে পারে, একটা বিরহের দিনের ভাবনাকে যে বদলে দিতে পারে, সেই ভদ্রলোককে তাঁর কাজের স্বীকৃতি দিতেই হবে। এটা একমাত্র ওনার কন্ঠস্বরের যাদুতেই সম্ভব হয়েছে!

©️শঙ্খচিল

খুব শিঘ্রই পরবর্তী পর্ব গুলো চলে আসবে..নিয়মিত চোখ রাখুন শাব্দিকের পেজে,প্রতিটি পূর্ববর্তী পর্বের লিংক পরবর্তী পর্বের সাথে পেয়ে যাবেন..তাই মিস করার কোনো অবকাশ নেই..সকলকে আসন্ন শারদ উৎসবের শুভেচ্ছা,সুস্থ ভাবে উৎসবের দিনগুলো হোক মধুর

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

রেটিং ও কমেন্টস জন্য



নতুন প্রকাশিত

হোম
শ্রেণী
লিখুন
প্রোফাইল