একবার বিদায় দে মা…(ক্ষুদিরাম বসুর জীবনী)

রামকানাই সিংহ
0 রেটিং
411 পাঠক
রেটিং দিন
[মোট : 0 , গড়ে : 0]

পাঠকদের পছন্দ

নীরব রজনী ঊষালগ্নের স্পর্শে ধীরে ধীরে  আলোকিত হচ্ছিল। এই নি:স্তব্দতা যেন অনন্ত মহাকাশের প্রতীকচিহ্ন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই এই নি:স্তব্দতাকে ভেঙ্গে দিয়ে  জেল করিডোরে রক্ষীদের কর্কশ পদধ্বনি আর লেফট -রাইট – লেফট এই শব্দধ্বনি এগিয়ে যেতে লাগল। আস্তে আস্তে এই আওয়াজ একটি জেল কক্ষের দরজার সামনে এসে থামল। জেলকক্ষের  দরজাটি যখন  খোলা হলো, হাসিখুশি নির্দোষ মুখের এক কিশোর তাদের অভ্যর্থনা দিয়ে জানান দিল সে মৃত্যুকে অতিক্রম করে অমরত্বের ছোঁয়া পেয়েছে। রক্ষীদের দিকে তাকিয়ে জেলকক্ষের প্রতিটি দেওয়াল যেন  বিদ্রুপের হাসিতে ফেটে পড়ছে।  মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জন্য ভয়হীন সেই ছেলেটি নির্ভীক পদক্ষেপে অগ্রসর হচ্ছেন ফাঁসি মঞ্চের দিকে এবং  প্রহরীরা কেবল তাঁকে অনুসরণ করে চলেছেন। মনে হচ্ছে সে স্বাধীনতার পথ দেখাচ্ছে।  সে ফাঁসির মঞ্চে সোজা হয়ে দাঁড়াল।  তাঁর মুখ সবুজ কাপড় দিয়ে ঢাকা হল, হাত পিছনে বাঁধা , দড়িটি তার ঘাড়ে ঘিরে ছিল।  ছেলেটি ফাঁসির দড়ির সামনে  দাঁড়িয়ে রইল। মনে হল মৃত্যু তাঁকে মহিমান্বিত করছে না বরং সেই  কিশোর মৃত্যুকে মহিমান্বিত করছে।  জেল মিস্টার উডম্যানের সিগন্যাল পেতেই ফাসুরে লিভারটি টানল।  ছেলেটার দেহ দুলতে থাকল অবিরাম।  তখন সকাল ছয়টা।  দিনটি ছিল ১৯০৮ সালের ১১ ই আগস্ট। মাত্র ১৯ বছর বয়সে কিশোর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম এর  ফাঁসি   ভারতীয় জনমানসে স্বাধীনতা আন্দোলনের পথে একটি নতুন যুগের সূচনার শুরু হল যা আজও প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে বিদ্যমান।
ক্ষুদিরামের মৃত্যু গোটা দেশবাসীর মনকে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলিত করেছিল।  দেশবাসীকে অন্তর থেকে জাগিয়ে দিয়েছিল সে। কারণ নিজস্ব শক্তি, মর্যাদাবোধ এবং বীরত্ব সম্পর্কে অবজ্ঞাহীন কোন জাতির তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল এই যুবক।  ক্ষুদিরামের শহীদ তাঁর সময়ের যুব সমাজের জন্য জীবনের এক নতুন অর্থ, মর্যাদার নতুন ধারণা নিয়ে এসেছিল যা এখনো পর্যন্ত তাৎপর্যবাহী ।  কয়েক হাজার এবং হাজারো শহীদ এই সত্যকে শিরোধার্য করে যে সম্মানজনক তথা তাৎপর্য্যপূর্ণ জীবনযাপনের একমাত্র উপায় হ’ল মহৎ উদ্দেশ্যে তথা  স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করা।  তাঁরা একের পর এক এসেছিল, অবিচ্ছিন্নভাবে তাঁদের রক্তপাত করেছিল, ভয়াবহ নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছিল, কিন্তু কখনও মাথা নত করেনি। 
 ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দের ৩ রা ডিসেম্বর ক্ষুদিরামের জন্ম মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন হাবিবপুর গ্রামে।  তাঁর পিতা ছিলেন ত্রৈলোক্যনাথ এবং মা ছিলেন লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী।  তিনি পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন।  অপরূপা, সরোজিনী এবং নানিবালা তাঁর তিনটি বড় বোন ছিলেন।  তিনি  ছয় বছর বয়সে পিতামাতাকে হারিয়েছিলেন।  তাই বড় বোন অপরূপা দেবী তাকে হাটগাছায় শ্বশুরবাড়ির বাড়িতে নিয়ে গেলেন।  সেখানে গিরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের পাঠশালায় (প্রাথমিক বিদ্যালয়) তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়।  অমৃতলাল রায় ছিলেন অপরূপার স্বামী।  তিনি ঘাটাল সিভিল কোর্টের একজন কেরানী ছিলেন।  তমলুক কোর্টে তাকে বদলি করা হলে ক্ষুদিরামও তাঁদের সাথে সেখানে গিয়েছিলেন।  তমালুক-এ তিনি চতুর্থ শ্রেণিতে (সপ্তম শ্রেণি) হ্যামিল্টন উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।   স্কুল জীবনে তাঁর দৃঢ় চরিত্র এবং সাহসের কারণে  সহজেই সমস্ত ছাত্রদের মধ্যে চিহ্নিত করা যেত ।  একবার তার স্কুলে একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মুষ্টির সাহায্যে টেবিলে ঘা দিতে বললেন।  বিশটি ছেলে এতে অংশ নিয়েছিল;  তবে তারা সবাই খুব শীঘ্রই হাল ছেড়ে দিয়েছিল।  কেবল ক্ষুদিরামই বারবার টেবিলে ঘা দিচ্ছিল।  তাঁর মুঠিতে রক্তক্ষরণ হয়েছিল, কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি।  শেষ পর্যন্ত শিক্ষক তার দৃঢ় সংকল্পের জন্য তাকে উষ্ণভাবে জড়িয়ে ধরলেন। আত্মার সাথে আত্মার মিলন হল। 
 অন্যদিকে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং নরম মনের অধিকারী ছিলেন।  শীতের সকালে এক ভিক্ষুক তাঁর বাড়িতে এলেন।  প্রচন্ড শীতে কাঁপছে সে।  তার জরাজীর্ণ পোশাক তাকে উষ্ণতা সরবরাহ করতে পারেনি।  ক্ষুদিরামের শাল ছিল।  এটি ছিল একটি মূল্যবান সম্পত্তি।  কারণ এটি ছিল তাঁর বিদায় নেওয়া পিতার শেষ স্মৃতিসৌধ।  ক্ষুদিরাম নিজের শরীর থেকে সেই শাল নামিয়ে ভগবানরূপী ভিক্ষুককে সেই শাল উপহার দিয়েছিলেন।  ভিক্ষুক চলে গেলে তাঁর দিদি অপরূপা তাকে ধমক দিয়ে বললেন, “তুমি তাকে শাল দিলে কেন? সে তা ব্যবহার করবে? সে ব্যবহার করবে না বরং তা বিক্রি করবে।”  খুদিরাম হাসলেন, “দিদি আমি এটা খুব ভাল করেই জানি। তবে এটি তার পরিবারকে কয়েক দিনের জন্য সাহায্য করবে। যদি এটি কয়েক দিনের খাবার সরবরাহ করে তবে আমি মনে করি এটি আমার বাবার স্মৃতিতে ন্যায়বিচার করবে।”  তিনি আবার বলেছিলেন, “আমি যখন  দেখি যে অসুস্থ অনাহার দরিদ্র লোকেরা শীতে কাঁপছে এবং ধনী পরিবারগুলির উর্ধ্বতন ছেলেরা গাফিলতির সাথে সিগারেট পান করছে, তখন নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারি না, খুব কষ্ট হয়।”  
মেদিনীপুর যখনই বন্যায় ডুবেছিল,  দরিদ্র ও নিঃস্ব মানুষের প্রতি গভীর অনুভূতির কারণে তিনি উদ্ধার কাজে ছুটে যান।  তিনি অর্থ, চাল এবং কাপড় সংগ্রহ করতেন এবং অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করতেন।  তাঁর দুর্দশার সময় বাংলায় স্বদেশী ও বিলাতী বর্জন (বিদেশী পণ্য বর্জন) আন্দোলন চলছিল।  এই আন্দোলনে সমর্থনকারী লোকেরা দেশীয় পোশাক পড়তেন।  সেই সময় একদিন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফণীভূষণ ঘোষ খদ্দর পরে স্কুলে এসেছিলেন যা বোম্বাই মিলে দেশীয় সুতির কাপড় দিয়ে তৈরী।  তাঁর অন্যান্য সহপাঠীরা তাকে নিষিদ্ধ করেছিলেন কারণ এটি মোটামুটি ছিল এবং ইংল্যাণ্ডের ম্যানচেস্টারের মিলগুলি থেকে আসা জামাকাপড়ের মতো দেখতে ভাল নয়।  তবে ক্ষুদিরাম ফণীভূষণকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে বলেছিলেন, “আমাদের সকল দেশীয় জিনিষ ব্যবহার করে গর্ব করা উচিত।”  তাঁর যুক্তি অন্যকেও প্রভাবান্বিত  করেছিল।  তারা প্রত্যেকে শপথ নিয়েছিল যে তারা কখনই বিদেশী পোশাক পড়বে না।  
অন্য একটি ঘটনা। ১৯০৪ সাল।  অমৃতলাল আবার মেদিনীপুর শহরে স্থানান্তরিত হলে, ক্ষুদিরাম মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন।  এখানে তিনি নিজেকে একা পড়াশুনায় আবদ্ধ করেননি।  বরং তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।  তমলুক শহরে কলেরার প্রাদুর্ভাব মহামারীতে পরিণত হলে ক্ষুদিরাম সেখানে ছুটে যায়।  তার আত্মীয়রা তাকে সেখানে না যেতে বলে;  কিন্তু তাকে বাধা দেওয়া গেল না। স্বামীজী বলতেন- ” তাঁরাই একমাত্র জীবিত যারা অন্যের জন্য বাঁচে, অন্যরা জীবিত থাকলে ও মৃত”- এই মনোভাব নিয়েই হয়ত তিনি রোগীদের সেবাশুশ্রূষা করেছিলেন  এবং কলেরা রোগে যারা পরলোকগমন করেছিলেন তাদের শ্রাদ্ধের সমস্ত  ব্যবস্থা করেছিলেন। এই রোগটি ছিল অত্যন্ত সংক্রামক এবং সেই সময় এটি মহামারীতে পরিণত হয়েছিল। কিশোর ক্ষুদিরাম কিন্তু নিজের জীবনের প্রতি যত্ন নেন নি । তাঁর সাধারণ মানুষের প্রতি ভালবাসা ও অনুভূতি ধীরে ধীরে দেশের প্রতি ভালবাসা রূপান্তরিত হয় এবং তাঁকে ঐ ছোট্ট বয়স থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনে আন্তরিক ভাবে জড়িয়ে দেয়।  
(২)
স্বামী বিবেকানন্দ বলতেন “আমি চাই এমন লোক – যাদের পেশী লৌহের ন্যায় ও স্নায়ু ইস্পাত নির্মিত, আর তাদের মধ্যে থাকবে এমন একটি মন যা বজ্রের উপাদানে গঠিত ।” এই রকম মানুষ তৈরীতে  তৎকালীন সময়ে বাংলাতে বহু গ্রুপ এবং ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।   উদ্দেশ্য ছিল বিদেশী শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দেশের যুবসমাজকে প্রস্তুত করা।  তমলুক রক্ষিতবাটিতে এমন একটি দল গঠন হয়েছিল।  এর নামকরণ করা হল ‘মাতৃসদন’।  ক্ষুদিরাম এই দলে যোগ দিলেন এবং শীঘ্রই ‘মাতৃসদন’ এর কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠলেন।  তিনি খুব পাতলা ছিলেন কিন্তু বিবেকানন্দ যেমন মানুষ চাইতেন তেমনি ছিল তাঁর ব্যক্তিত্ব। 
বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ তখন অশান্ত হয়ে উঠছিল।  ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বুঝতে পেরেছিল যে যুবশক্তির সংগঠিত প্রতিবাদ সংগ্রামে পরিণত হলে বাংলা থেকে তাদের উৎখাত হতে হবে।।  ১৯০৫ সালে ব্রিটিশরা সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে ‘বঙ্গভঙ্গ’ এর প্রস্তাব আনল। বাংলার জনগণ এই প্রস্তাবটিকে তীব্রভাবে অস্বীকার জানাল।  সমগ্র বঙ্গদেশটি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সোচ্চারপূর্ণভাবে জানিয়েছিল “আমরা বঙ্গভঙ্গকে মানি না।”  সেই সময় লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গকে ‘স্থিত সত্য’ ( Settle Fact)  হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন।  তবে বাংলার মানুষ এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছিল।  প্রবীণ নেতৃত্বদানকারী সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় এই ঘোষণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল, ” We must unsettle the settle fact।”  ১৯০৫ সালের আগস্ট মাসে কলকাতার টাউন হলে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বিদেশি পণ্য বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  ২৫ সেপ্টেম্বর ‘পার্টিশন’-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিপুল সংখ্যক লোক কলকাতা ময়দানে জড়ো হয়েছিল।  পুলিশ নির্মমভাবে এই সমাবেশে লাঠিচার্জ করে।  তবে তা বিপুল জনসংখ্যক মানুষকে  হতাশ করতে পারেনি।  পরবর্তীতে এটি সমগ্র বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।  তৎকালীন বুদ্ধিজীবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চিত্তরঞ্জন দাশ, সিস্টার নিবেদিতার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন।  
মেদিনীপুরে কিছু গোপন বিপ্লবী সংগঠন তাদের কার্যক্রম শুরু করে।  জ্ঞানেন্দ্রনাথ বোস, সত্যেন বোস এবং হেমচন্দ্র কানুনগো প্রবর্তক ছিলেন।  জ্ঞানেন্দ্রনাথ এবং হেমচন্দ্র ছিলেন স্কুল শিক্ষক ।  একদিন হেমচন্দ্র রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি ছোট্ট ছেলে তার রাস্তা অবরোধ করে তাকে থামিয়ে দেয়।  তার কাছ থেকে ছেলেটি একটি রিভলবারের দাবি করে।  হেমচন্দ্র যখন জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি রিভালবার নিয়ে কি করবে?” তখন ছেলেটি  ক্রোধান্বিত হয়ে জানায় যে, সে একজন সাহেবকে অর্থাৎ ব্রিটিশ শোষক হত্যা করতে করবে।  ছেলেটি ছিল ক্ষুদিরাম।  দেশপ্রেমের অনুভূতি তাকে খুব অল্প বয়সেই আঁকড়ে ধরেছিল।  
একদিন ক্ষুদিরাম কংসবতি নদী পেরিয়ে ঘন জঙ্গলে প্রবেশ করল।  একটি নির্জন পুরানো মন্দির ছিল।  আশেপাশে অনেক বিষাক্ত সাপ এবং বিপজ্জনক প্রাণী থাকলেও তিনি সেখানে দীর্ঘক্ষণ শুয়ে ছিলেন।  কিন্তু সে পাত্তা দিল না।  দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকায় সত্যেন বোস সর্বত্র তাকে খুঁজতে বেরিয়ে গেলেন।  অবশেষে তিনি তাকে মন্দিরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। সত্যেন বোস কৌতূহল বশত প্রশ্ন করেন, ” কি রে তুই এখানে কি করছিস?’ ক্ষুদিরাম তার প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন যে, “স্থানীয় বিশ্বাস অনুসারে কেউ যদি এই মন্দিরে প্রার্থনা করেন তবে তার কোনও রোগ নিরাময় হবে।”  সত্যেন বোস যখন জিজ্ঞেস করলেন যে তাঁর রোগটি কী,  তখন ক্ষুদিরাম অত্যন্ত সংবেদনশীল হলেন।  চুপ ছিলেন কিছুক্ষন। তারপর উত্তরে বললেন  দীর্ঘকাল যাবৎ আমার অত্যন্ত স্নেহের ভারতমাতৃকা এক কঠিন রোগে আক্রান্ত। সেই রোগটি হল ‘দাসত্ব’। এই কঠিন রোগের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য তাঁর ভয়ঙ্কর জঙ্গলে  জীর্ণ মন্দিরে নির্জনবাস ও প্রার্থনা”। সত্যেন বসুর হৃদয় গর্বে ফুলে উঠল  ।  এই কথা শোনার পর সত্যেন বোস বুঝতে পেরেছিলেন যে ক্ষুদিরাম স্বাধীনতার আন্দোলনের সত্য সৈনিক। তিনি তাকে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে তাদের গোপন বিপ্লবী সংগঠনে যুক্ত করান ।
ক্ষুদিরাম তাঁর  পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী না হলেও তিনি বিপ্লবী মাজ্জিনী  এবং গারীবাল্ডির  জীবনী এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিপ্লবী গ্রন্থকে তীব্র মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করেছিলেন।  স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য তার কাছে অসম্ভব বলে কিছু ছিল না।  যখন স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতারা তাকে তমলুক সংগঠনের কার্যক্রম এবং মেদিনীপুর সংগঠনের কার্যাবলীর দায়িত্ব দিলেন তখন সে নিষ্ঠার সাথে সেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এখানে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার এই যে, তমলুক শহরটি মেদিনীপুর থেকে প্রায় ৭৫ মাইল দূরে ছিল এবং  তিনি কোনও প্রশ্ন ছাড়াই এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং   নিয়মিত রাতে একা সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করেছিলেন মেদিনীপুর থেকে  তমলুক। আবার পরের দিন প্রচন্ড কষ্ট এবং পুলিশি গ্রেফতারের ঝুঁকি নিয়ে সকালে মেদিনীপুরে ফিরে এসে সংগঠনের কার্যাবলী তদারকি করতেন।  এই ঘটনা থেকে বোঝা যায় ক্ষুদিরাম কতটা পরিশ্রমী ছিলেন।  
ক্ষুদিরাম গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন।  তাঁর ভাইপো ললিত তাঁর আসার অপেক্ষা করতেন।  ক্ষুদিরাম এলে একসাথে বসে খেতেন। এই রকমই  একদিন তারা দেখতে পেল একটি বিড়াল তাদের  খাবার খেয়ে নিয়েছে। সন্তুষ্ট মনে  ক্ষুদিরাম ভাইপোর মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন যে একরাতের অনাহার তাদের স্বাস্থ্যের জন্য সাহায্য করবে।  কিন্তু ললিত ক্ষুধা সহ্য করতে পারেনি।  সুতরাং, তারা খাবারের জন্য অনুসন্ধান করেছিল।  একজন বৃদ্ধ মহিলা  তার বাড়িতে কাজ করছিলেন।  ললিতের কাছ থেকে যখন তিনি জানতে পারলেন যে দু’জনেরই অনাহারে রয়েছে, তখন তিনি তাদের বাড়িতে খাবার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।  কিন্তু হাতের কাচের চুড়ি দেখে ক্ষুদিরাম অনীহা প্রকাশ করলেন। কারণ সেগুলি বিদেশ থেকে  আমদানি।  কুসুম কুমারী দেবী সব বুঝলেন;  তিনি সঙ্গে সঙ্গে তার কাচের চুড়িগুলি ভেঙে ফেললেন।  তখন ক্ষুদিরাম আনন্দের সাথে তার আমন্ত্রণটি গ্রহণ করলেন। এই ছিল তাঁর দেশের প্রতি ভালবাসা। 
(৩) কথায় আছে তলোয়ারের চেয়ে কলমের জোর অধিক।  বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে তীব্র করার উদ্দেশ্যে জাতীয়তাবাদী সংবাদপত্রগুলি ধারাবাহিকভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের নির্মম শোষণকে প্রকাশ করতেন বিভিন্ন প্রবন্ধের মধ্য দিয়ে।  সেই সময় এই জাতীয় একটি প্রবন্ধ  বিপ্লবী সংগঠন ‘যুগান্তর’ এর দ্বারা ‘বন্দেমাতরম’ পত্রিকায়  প্রকাশিত হয়েছিল। এর সম্পাদক ছিলেন বিপিন চন্দ্র পাল। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়েছিল।  বিপিন চন্দ্র আদালতে এসেছিলেন, কিন্তু নিজেকে রক্ষা করেননি। তিনি আদালতের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেন নি। আদালতকে অবমাননার দায়ে বিচারক মিঃ কিংসফোর্ড তাকে দুই মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।  আদালতের বাইরের উপস্থিত ব্যক্তিরা এই অন্যায় রায়টির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।  ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছিলেন বিপ্লবীরা। এই সময় আন্দোলনকারীদের আন্দোলন ভঙ্গ করার জন্য  পুলিশ কঠোরভাবে লাঠি চালাই। পুলিশ যখন বেধড়ক পেটাচ্ছেন সেই সময়  সুশীল সেন নামে একটি চৌদ্দ বছর বয়সী ছেলে সেখানে উপস্থিত ছিল। এক  সার্জেন্টকে সে মাটিতে ফেলে মারতে থাকে।    সুশীল সেনকে  তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং মিঃ কিংসফোর্ড তাকে ১৫ বার চাবুক মারার নির্দেশ দিয়েছিলেন।  এই রায় নিয়ে পুরো বাংলা আগুনে জ্বলছিল। 
বিপ্লবীরা সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন যে, এই অবমাননার ক্ষতিপূরণ কিংসফোর্ডকে নিজের জীবন দিয়েই দিতে হবে। তৎকালীন সময়ে  হেমচন্দ্র কানুনগো প্যারিস থেকে বিস্ফোরক বিজ্ঞানের প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন। তিনি এবং উল্লাসকর দত্ত কয়েকটি উচ্চ বিস্ফোরক তৈরি করেছিলেন।  কিংসফোর্ড  মুজাফফরপুরে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন ।  কিন্তু বিপ্লবীরা ব্রিটিশদের এমন একটি শিক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেন সেখানেও তাকে রেহাই দেওয়া হবে না। কিংসফোর্ডকে হত্যা করার দায়িত্ব দেওয়া হয় অগ্নিকিশোর  ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকিকে। প্রফুল্ল ও ক্ষুদিরাম যেন এক আত্মা, দুই দেহ। তাঁরা শোনামাত্র গর্বিত হয়ে ওঠেন কারণ তাঁদের নেতারা তাদের এতত  বড় দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ক্ষুদিরামের মুখটি আনন্দে ভেসে উঠল  যেন সে  আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার স্বাদ  পেয়ে গিয়েছে। এই সময় ক্ষুদিরাম নতুন জুতো কিনেছিল।  তাঁর বন্ধুরা যখন দেখল যে ক্ষুদিরাম একজোড়া নতুন জুতো কিনেছে, তখন তারা অবাক হয়ে গেল কারণ সে দীর্ঘকাল থেকে জুতো পড়ে  নি।  এরপর ক্ষুদিরামের সাথে তার বন্ধুদের কিছু কথা হয় যা শুনলে আপনার ভিতরের শক্তি তীব্রবেগে বেরিয়ে আসবে। কথোপকথনটি ছিল এই রকম – তার বন্ধুরা কৌতূহলবশত জিজ্ঞাসা করল – তুমি নতুন জুতো কিনেছো?
ক্ষুদিরাম – হ্যাঁ, আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি।  
-কোথায়?  
– উত্তর দিকে.  
-তুমি কখন ফিরে আসবে? 
-কখনই নয়!  আমি আমার শ্বশুর বাড়িতে স্থায়ীভাবে বাস করব। 
 কি হিউমার!  তাঁর আচরণে কোনও উদ্বেগ, কোনও অস্থিরতা, কোনও উত্তেজনা পাওয়া যায়নি কারণ সে তখন অভী: মন্ত্রে নিজেকে দীক্ষিত। মৃত্যুভয়কে তিনি যে অনেক আগেই বিতাড়িত করেছিলেন তা আর বলতে অপেক্ষা রাখে না। 
 ১৯০৮ সালের ১০ এপ্রিল। ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী মুজাফফরপুরে পৌঁছালেন। কিন্তু তারা দেখতে পান যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ভয় পেয়ে   কিংসফোর্ডকে নিরাপত্তার গণ্ডিতে  সীমাবদ্ধ রেখেছিল।  ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল দুইজনেই কিংসফোর্ডের চলাফেরার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখছিলেন এবং সুযোগের আশা ছিলেন।  হঠাৎ সেই সুযোগ এলো। দিনটি ছিল ৩০ শে এপ্রিল। প্রায় সাড়ে ৮ টার দিকে তারা দেখতে পেল  কিংসফোর্ডের গাড়িটি নাইটক্লাব থেকে ফিরে আসছে। এই সুযোগ হাত ছাড়া করা যাবে না এই ভেবে  ক্ষুদিরাম বোমা নিক্ষেপ করে, যা প্রচন্ড জোরে বিস্ফোরিত হয়।  গাড়ি আগুনে ভস্মীভূত হল ।  কিংসফোর্ড হত্যা অভিযান সফল হয়েছে এই ভেবে ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল ঘটনাস্থল থেকে বিচ্ছেদ হয়ে পালিয়ে যায়  এবং রেলপথ ধরে বিপরীত দিকে যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেয়।  পরদিন সকালে ক্ষুদিরাম ওয়াইনি রেল স্টেশন পৌঁছায় , যা মুজাফফরপুর থেকে ২৫ মাইল দূরে ছিল।  তখন তিনি অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত ছিলেন। তৃষ্ণা মেটানোর উদ্দেশ্য  তিনি একটি খাবারের স্টলে জল খাচ্ছিলেন, তখন দুই কনস্টেবল তাকে গ্রেপ্তার করে।  ক্ষুদিরামের শরীর অনুসন্ধানের পরে পুলিশ দুটি রিভলবার, ৩ রাউন্ড গুলি, একটি ভারতীয় রেলওয়ে মানচিত্র এবং রেলওয়ের টাইম টেবিলের একটি পৃষ্ঠা পেয়েছিল।  ক্ষুদিরামকে  মুজাফফরপুরে ফিরিয়ে আনা হল।  চোখমুখ জাগ্রত আগ্নেয়গিরি মত । ক্ষুদিরামের শরীর থেকে দিব্যজ্যোতির বহি:প্রকাশ।  তাকে পুলিশ গাড়িতে করে নিয়ে আসে, তখন ক্ষুদিরাম সিংহবিক্রম পুরুষের ন্যায় গর্জন করে “বন্দেমাতরম..বন্দেমাতরম..”  ধ্বনিতে চারিপাশ কেঁপে উঠল।  দ্য স্টেটসম্যান লিখেছেন: ” The railway station was crowded to see the boy. A mere boy of 18 or 19 years old, who looked quite determined. He came out  of a first class compartment and walked all the way to phaeton, kept for him outside, like a cheerful boy who knows know anxiety… on taking his seat the boy lustily cried ” _Bandemataram_ “. 
 প্রফুল্ল চাকিকেও পুলিশ ধাওয়া করে।  গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য তিনি ১৯০৮ সালের ১ মে মোকামাঘাট রেলস্টেশনে আত্মহত্যা করে শহীদ হয়েছিলেন। তবে ক্ষুদিরাম এই খবরটি জানতে পারেন নি, তাই তিনি প্রফুল্লকে বাঁচানোর জন্য সমস্ত দায়িত্ব স্বীকার করেছিলেন। পরে প্রফুল্লকে  সনাক্ত করার জন্য পরে তার দেহ   মুজফফরপুরে আনা হলে  ক্ষুদিরাম তার পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এই ছিল তাদের বন্ধুত্ব। 
পরবর্তীতে ক্ষুদিরামের বিচার ২১ শে মে থেকে শুরু হয়েছিল।  ক্ষুদিরাম যখন জানতে পারল যে বোমাটি দুই নিরীহ ইংরেজী মহিলা  হত্যা করেছে এবং কিংসফোর্ড আক্রমণ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল সে হতবাক হয়ে গিয়েছিল। হত্যার জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।  ১৩ জুন  ক্ষুদিরামকে মৃত্যুদণ্ড এর আদেশ দেওয়া  হয়েছিল।  রায় দেওয়ার সময় ভারতমাতার বীর সন্তান  ক্ষুদিরাম হাসছিলেন। মৃত্যু যেন তুচ্ছ ব্যাপার। ভারতমাতাকে স্বাধীন করাই ছিল তার জীবনের লক্ষ্য।  বিচারকের সাথে ক্ষুদিরামে কথোপকথন হৃদয়ে টাগ কেটে যাওয়ার মত।   কিশোর ভেবে বিচারক ভেবেছিলেন যে  রায় বুঝতে পারবেন না।  তাই তিনি ক্ষুদিরামকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি রায়টির তাৎপর্য বুঝতে পারলেন? 
ক্ষুদিরাম – অবশ্যই।  
বিচারক – আপনার কিছু বলার আছে?  
ক্ষুদিরাম – আপনি যদি আমাকে অনুমতি দেন তবে আমি বোমা তৈরির কৌশলটি বর্ণনা করতে পারি।


বিচারক পুলিশকে তাকে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।  হাইকোর্টে আপিলের জন্য এক সপ্তাহ মঞ্জুর করা হয়েছিল।  তবে ক্ষুদিরাম আপিল করতে চাননি। ভারতমাতার উদ্দেশ্যে  তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলেন।  তবে দলের নির্দেশে তাঁর উকিলরা তাকে বলেছিলেন, যদি তার আবেদন মঞ্জুর হয় তবে তিনি দেশের পক্ষে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন।  তখন ক্ষুদিরাম রাজি হন। এতটাই গভীর ছিল তাঁর দেশপ্রেম। তাঁর জীবনের প্রতিটি ছত্রে ছত্রে ছিল ভারতমাতার প্রতি গভীর ও তীব্র ভালবাস।
  ১৩ ই জুলাই মিঃ ব্রেট এবং মিঃ রাইভেসের আদালতে এই আবেদন বাতিল হয়ে যায়।  পুরো জাতি এই মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে বজ্রপাতের প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। এই রায়ে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। তবে সাম্রাজ্যবাদীদের কোনও কিছুই সাজা কার্যকর করতে বাধা দিতে পারেনি।  যদিও এগুলি সব ক্ষুদিরামের উপর কোনও ছাপ রাখেনি।  তিনি স্বদেশমাতার কোলে মাথা রেখে শান্তিতে ঘুমাচ্ছিলেন। এলো ১১ই  আগস্ট । হাসিমুখে মৃত্যুকে বরণ করে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে নিজেকে অগ্নিকিশোর রূপে পরিচিয় দিয়ে গেলেন। পরের দিন অমৃতবাজার পত্রিকাটিতে  লেখা হয়েছিল : ” *আজ ক্ষুদিরামকে ভোরবেলায় ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। তিনি দৃঢ়ভাবে আনন্দের সাথে ফাঁসির প্ল্যাটফর্মের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এমনকি তাঁর মুখটি কাপড় পরে ঢাকা হলেও তিনি হাসছিলেন” (* অমৃতা বাজার পত্রিকা, আগস্ট 12, 1908)।  

ক্ষুদিরাম এর জীবন  সাহসী, ত্যাগ, সংবেদনশীলতা,স্বদেশপ্রেম, শান্ততা, বিদ্রোহ এবং যৌবনের প্রতীক ।  তাঁর   জীবন স্ব-মর্যাদাবোধ,  দরিদ্র ও নিঃস্বদের প্রতি গভীর ভালবাসার প্রতীক ।  তাঁর আদর্শের দৃঢ়তা ছাত্রযুবদের আজও অনুপ্রেরণা জোগায়   তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের আপোষহীন ধারার একজন মহান শহীদ।  ক্ষুদিরাম কেবলমাত্র প্রাক-স্বাধীন ভারতের যুবকদের আলোড়িত করেনি,  একের পর এক প্রজন্মের ছাত্রযুব থেকে শুরু করে নারীদের চরিত্র গঠনে আজও অনুপ্রাণিত করে।  ১৯১১-এ, সুভাষ চন্দ্র বসু ক্ষুদিরাম বসুর আত্মত্যাগকে এতটাই শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন যে, ১৯১১ সালে তিনি  যখন স্কুল পড়ুয়া ছিলেন, তখন বন্ধুদের নিয়ে ১১ইই আগস্ট অনশন  রেখে শহীদ দিবসটি পালন করেছিলেন। আমরা কি ভুলে যেতে বসেছি  অগ্নিকিশোর ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকীর আত্মত্যাগ?  যাদের আত্মত্যাগের জন্য আমাদের প্রাপ্তি স্বাধীনতার মূল্য? আমরা কি ভুলে যেতে বসেছি ” একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি… হাসি হাসি পড়ব ফাঁসি…দেখবে ভারতবাসী… ” – এই লাইনের তাৎপর্য্য? আমরা কি শুধুই দেখব নাকি নিজেদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন ভারতবর্ষকে গড়ে তুলব যার স্বপ্ন ক্ষুদিরাম বসু,  মাষ্টার দা সূর্য সেন,নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু দেখেছিলেন।
(সমাপ্ত)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

রেটিং ও কমেন্টস জন্য



নতুন প্রকাশিত

হোম
শ্রেণী
লিখুন
প্রোফাইল