জঙ্গল_ডায়েরিজ (১)

অশোক ভট্টাচার্য
0 রেটিং
235 পাঠক

বলেছিলুম জাঁকিয়ে বসব অরণ্যের দিনরাত্রি, বিচ্ছিন্ন হব সভ্যজগত থেকে। তা বোধহয় আর হয়ে উঠলো না এ যাত্রায়। মোবাইলের টনটনে টাওয়ার সর্বত্র আপাতত।
রাত দেড়টায় বেতলার দিকে যখন জিপ ছুটলো তখন একই সাথে জঙ্গল আর নাগরিকতা ; ফেসবুক আর হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপগুলোর নোটিফিকেশন ‘করলো দুনিয়া মুঠঠি মে’ র স্লোগান  পাহাড়-জঙ্গলের বুক-পাঁজরে বিষাক্ত বেমানান  প্রতিধ্বনি করতে লাগলো।
তবে এই যে কি-প্যাডে টাইপ করছি যেথায় বসে…সেখানে কিছুটি হবার যো নেই। মানে এ লেখা কোথাও পোস্ট করতে পারব না এখন। আগামী দুদিন তো বটেই। বেতলা থেকে বিকালে মারোমার.. সেখানে কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। 
মন খারাপের জগত থেকে পালিয়ে এসে আরো এক মন খারাপের জগত। মেঘ না চাইতে জল। দর্শন মিললো মহাকালের। সচারাচর দাঁত দ্যাখা যায় না তাঁর, সেই মহাঐশ্বর্যকে সযত্নে সীমাহীন লোভের দুনিয়া থেকে প্রাণপণে রক্ষা করার জন্য তিনি লুকিয়ে রাখেন তা। তাও দেখলুম। এক পাল তাঁরা। একে একে হরিণ তাও…।টিকিট কেটে আলিপুরে এসেছি এমন ভাবে ড্রাইভার কে বললাম, চলো চলো আর কোন দিক, কোথায় গেলে আরো দেখব?  
কে যেন বলেছিলেন, জঙ্গলে তুমি হয়ত কাউকে দেখছো না,কিন্তু কয়েক জোড়া চোখ তোমায় ঠিক দেখে চলেছে। 
ক্লিক ক্লিক ক্লিক। সব ফ্রেম বন্দী হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে করলে দুনিয়া মুঠঠিমের পাতা জালে সেগুলোকে ছুঁড়ে দিচ্ছি, মুহূর্তে সারা দুনিয়ায় সভ্যতার সাথে জঙ্গলকে জুড়ে দিচ্ছি। 
ব্যাপার টা এমন যে, আমি আসলুম তোমার বাড়িতে। তোমাকে যেন সেজেগুজে বসে থাকতেই হবে আমায় দর্শন দেওয়ার জন্য। কে অনুমতি দিয়েছে?  তুমি দাওনি তো। তাহলে কার অনুমতিতে তোমার ছবি তুলে হাটে বাজারে ছাড়ছি গো? এই যদি সভ্যতা হয়,তবে তুমি চিরকাল আদিম অসভ্য হয়ে থাকো জঙ্গল। 
“এই তো নেট এসেছে। এবার আপলোড হচ্ছে।” সর্বশরীরে বিষাক্ত আমি এখন তোমাকে ছুঁয়েছি। সভ্যতার সীমাহীন লোভের চিহ্ন তোমার বুক, পেট, নাভিমূলে নখ-দাঁত বসিয়েছে…ওই তো তার চিহ্ন, লুটিয়ে আছে যত্রতত্র  কাটা কাটা গাছের গুঁড়ি। তার ওপর দাঁড়িয়ে আর একটা সেলফি হয়ে যাক। আহ্ বিষ…জঙ্গল তুমি নীলকন্ঠ।

 #অশোক_ভট্টাচার্য_রাজা/ ১৫.১০.২০১৯ বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট

(ক্রমশঃ)
চিত্র সৌজন্য : গুগল

আপনার রেটিং দিন:
[Total: 0 Average: 0]
আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন: