FOMO

প্রসূন রঞ্জন দাসগুপ্ত
5 রেটিং
541 পাঠক
রেটিং দিন
[মোট : 1 , গড়ে : 5]

পাঠকদের পছন্দ

–প্রসূন রঞ্জন দাশ গুপ্ত

2013 সালে অক্সফোর্ড ডিকশনারীতে উপরোক্ত শব্দটি নথিভূক্ত হয়েছে দেখুনতো শব্দটির সঙ্গে আপনি পরিচিত কিনা ? হয়তো প্রথমে শব্দটি অচেনা লাগবে কিন্তু এই লেখা টি পড়ার পরে এই শব্দটি হয়ে দাঁড়াবে আপনার কাছে অতি পরিচিত। FOMO এর সম্পূর্ণ অর্থ হল FEAR OF MISSING OUT এবং এটি হলো একটি রোগ যে রোগের শিকার কম বেশি আমরা সবাই।

WHO বা WORLD HEALTH ORGANIZATION একটি সমীক্ষা করে একটি তালিকা প্রস্তুত করেছেন তালিকাটির নাম MOST DEPRESSED COUNTRIES অর্থাৎ সবচেয়ে অবসাদগ্রস্ত দেশ এবং সেই তালিকায় ভারত আছে বিশ্বে 3 নম্বরে, আমেরিকা ও চীনের পরেই। এখন দেখা দরকার আমরা কেন এত হতাশ ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছি। ছোটবেলা থেকে আমাদের শেখানো হচ্ছে যে জীবন হলো একটি ইঁদুর দৌড় এবং আমরা দৌড়ে চলেছি কিসের পেছনে? আরো অর্থ, আরো জনপ্রিয়তা, আরো বেশি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, এবং পরিচিতির পেছনে এবং যত দৌড়াচ্ছি আমরা তত অখুশি হচ্ছি কারণ আমরা আমাদের কাঙ্খিত ফলাফল পাচ্ছি না কেন পারছি না কারণ আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের সাফল্যকে তুলনা করে চলেছি অন্যদের সঙ্গে জীবনের প্রত্যেকটি পদক্ষেপ আমাদের সব সময় মনে হচ্ছে আমি যা পেয়েছি আমার পাশের জন আমার থেকে অনেক বেশি পেয়েছে আর এর থেকেই জন্ম নিচ্ছে এই দশকের ভয়ংকরতম রোগ FOMO.

Urban Dictionary অনুযায়ী FOMO র সংজ্ঞা হলো “ A feeling of anxiety or insecurity over the possibility of missing out on something, as an event or an opportunity “  অর্থাৎ এটি হলো সব সময় কাজ করে চলা আমাদের একটি উদ্বেগ অথবা নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি যে এই বুঝি আমি কোন গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ অথবা ইভেন্ট হাতছাড়া করলাম।

যেমন ধরুন কোন পার্টি বা পিকনিকে না যেতে পারার জন্য FOMO, আমার সব সময় মনে হতে থাকবে যে ইসস লোকে কত মজা করছে সেলফি তুলছে ভিডিও করছে তারপর সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করছে ওরা কী আনন্দেই না আছে, আর আমি সব মিস করলাম,  আর সহজেই অনুমেয় যে আজ এই সমস্যার জন্য মূল দায়ী হলো সোশ্যাল মিডিয়া ও সস্তা ইন্টারনেট পরিষেবা। আমাদের কাছে এখন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সারাদিন লোকে কি করছে সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা এবং আমার নিজের পোস্টে কত লাইক বা কমেন্ট করছে সারাদিন ধরে সেগুলো গোনা এটা রীতিমত একটা অবসেশন এর পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, এবং এই নেশা ড্রাগের নেশার থেকে কম কিছু নয়।

অবশ্যই আধুনিক সমাজে আর সোশ্যাল মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস এবং এটা তৈরি হয়েছিল মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য কিন্তু এটা আজকে হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি “ STALKING TOOL “ আমরা ভুলে যাই সোশ্যাল মিডিয়ায় কারো জীবনের সম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি আমরা পাইনা সেখানে লোকে শুধু নিজের খুশির মুহূর্ত টুকুই পোস্ট করে তাও অনেক ফিল্টার চড়িয়ে আর আমরা প্রতিনিয়ত ভাবতে থাকি ও কত সুখে আছে এবং আমাকে আরো সুখী হতে হবে। এইভাবে FOMO র থেকে জন্ম নেয় চরম অসন্তুষ্টি এবং আমাদের শরীর ও মনে এর তীব্র প্রভাব পরে , এর থেকে জন্ম নেয় যথাক্রমে মুড সুইং, একাকীত্ব, ইনফেরিয়রিটি কম্প্লেক্স, আত্মসম্মানের অভাব, সামাজিক উদ্বেগ, অস্বীকৃতি ও অবসাদ।

FOMO র ফলে সব সময় মনে হয় আমায় অনেক অল্প সময় অনেক কিছু করতে হবে কিন্তু আমরা ভুলে যাই যে জীবন প্রকৃত অর্থে কোন রেস নয় এবং অন্যের সঙ্গে তো একেবারেই নয় কারণ আমরা সকলেই আলাদা আলাদা মানুষ আমাদের সকলের জীবন আলাদা পছন্দ-অপছন্দ আলাদা তাই জন্য আমাদের জীবন তো এক রকম হতে পারে না তাই অন্যের সঙ্গে কেনরে সে যাব যদি হয় তাহলে নিজের সঙ্গে কিন্তু যখন রেস নিজের সঙ্গেই তখন তারা কিসের নিজের মতন ধীরেসুস্থে চলি না কেন অযথা অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববো বর্তমান এ বাঁচি ও সেই কাজগুলো করার চেষ্টা করি যেগুলো আমায় প্রকৃত পক্ষে আনন্দ দেয় ।

আমি কয়েকটি অনুশীলন প্রস্তাব করছি যা আপনাকে আপনার FOMO র সাথে মুখোমুখি হতে সাহায্য করবে

  1. আপনার যে সমস্যাটি আছে সেটি আপনাকে স্বীকার করতে হবে নিজের কাছে। নিজেকে বলুন যে আপনি সবসময় সর্বত্র থাকতে পারবেন না সব সময় দুর্দান্ত দুর্দান্ত জিনিস করতে পারবেন না সবাইকে সুখী করতে পারবেন না নিজের কাছে নিজে সৎ থাকুন তাহলেই দেখবেন আপনি সমস্যা সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবেন।
  2. সুইচ অফ- অর্থাৎ খানিকক্ষণের জন্য আপনার মোবাইল ফোনটি সুইচ অফ করুন। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দূরে সরে যান। এরপর ধীরে ধীরে কেবলমাত্র দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় স্থির করুন সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য, অন্য সময় সে দিকে যাবেনই না। যদি ফাঁকা সময় পান তাহলে নিজের পছন্দের অন্য কাজ করুন, গান শুনুন কোন সিনেমা দেখুন একটা বই পড়ুন তাহলেই দেখবেন সমস্যা অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন।
  3. মনোযোগ অনুশীলন – এটি একটি দারুণ কৌশল নিজেকে এমন কাজে ব্যস্ত রাখুন যাতে অনেক মনোযোগ লাগে যেমন কোন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বাগান করতে পারেন যে কোন সমাজ সেবামূলক কাজে যুক্ত হতে পারে এসব কাজে যুক্ত হলে শরীর ও মন অবশ্যই ভালো লাগবে
  4. এছাড়া পরিবার ও প্রিয় জন কে সময় দিন বাবা-মা স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন সবাই মিলে কাছেপিঠে ঘুরতে যান ।

তবে এভাবেও যদি দেখেন সমস্যার কোন সমাধান ই হচ্ছে না তাহলে হয়তো আপনাকে মনোবিদের পরামর্শ নিতেই হবে।

আজ এ পর্যন্তই থাক এরকম আরো সমস্যা নিয়ে আমরা আলোচনা করব পরবর্তী সংখ্যায়। তার জন্য নিয়মিত চোখ রাখুন শাব্দিক এর পেজ এ।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

নতুন প্রকাশিত

হোম
শ্রেণী
লিখুন
প্রোফাইল