মন খারাপের কাউন্সেলিং

ড: সুবীর নাগ
3 রেটিং
300 পাঠক

“ভুবন জোড়া ফাঁদ পেতেছ কেমনে দিই ফাঁকি / অর্ধেক ধরা পড়েছি গো অর্ধেক আছে বাকি” –

বিশ্বজোড়া করোনা শ্রেণীর কোভিড-১৯ ভাইরাসের আক্রমণে আমরা সবাই এখন গৃহবন্দী। সকাল থেকেই অনেকেরই মনখারাপ, দৈনন্দিন জীবনের অভিধানে যোগ হয়েছে অনেক নতুন শব্দ- লকডাউন, আইসোলেশন, কোয়ারান্টাইন ইত্যাদি।অখণ্ড অবসর সকলকে মোটেই খুশি করতে পারেনি। বাচ্চা থেকে বুড়ো ঘ্যানঘ্যান করছে, নানাজনের নানা সমস্যা। কাগজ খুললেই শ্রমজীবী মানুষ ও সর্বহারাদের হাহাকারের ছবি আর টিভি চ্যানেলে বিশেষরূপে অজ্ঞ মানুষদের অকারণে অজস্র অজ্ঞতা বর্ষণ – আর যাই হোক মানুষকে স্বস্তি দিতে পারে না। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মত পরিচারিকাদের সমস্ত কাজ নিজেদের করতে হওয়ায় গৃহিণীদের মুখ ভার। সোহাগের আতিশয্যে কোনও কর্তা যদি গিন্নিকে সাহায্য করতে এগোয়, আসছে তীক্ষ্ম বাক্যবাণ – ” একে জ্বলেপুড়ে মরছি, তার ওপর আর অকাজ করে জ্বালা বাড়িওনা তো! “
        বাচ্চাগুলো জানালার গ্রীল ধরে থুতনি ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে। স্কুল, কোচিং সব বন্ধ। বন্ধুদের সাথে দেখা হচ্ছে না, কত কথা রয়ে গেছে। তার ওপর অনলাইন ক্লাস, টিভিতেও পড়ানো হচ্ছে – ভাল্লাগে না। দাদুর বুকে চিনচিন করে ব্যথা হচ্ছে আর ঠাকুমার মাথাব্যথা তো সারতেই চাইছে না। ভালো লাগছে না কারো, উপায় কি?
     সারাদিন একটা ভুল শব্দ প্রয়োগ হয়ে চলেছে- সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং। শব্দটা হওয়া উচিত ছিল ফিজিক্যাল ডিস্ট্যান্সিং। সোশ্যাল মিডিয়া ও ফোনের দৌলতে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স হবার কোন প্রশ্নই ওঠে না, বরং অনেক মানুষ পুরনো বন্ধুদের খুঁজে পেয়েছে এই সময়। অনেকে আবার বহুদিন যোগাযোগ না থাকা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছে। কেউ বা বহুদিন ধরে ধুলো পড়া বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বসতে পারছে।অনেকে না পড়া বই নিয়ে বসেছে , কেউ বা পুরনো সিনেমা দেখছে। সৃষ্টিশীল মানুষরা লেগে পড়েছে নতুন সৃষ্টির কাজে, সবাই যে খুব খারাপ আছে তাও নয়
            আসল কথা হলো মেনে নেওয়া, মানিয়ে নেওয়া। সারদা মায়ের ভাষায় , “যে সয়, সে রয়”।  প্রত্যেক মানুষের জীবনের একটা নির্দিষ্ট ছন্দ আছে, যাকে পোশাকি ভাষায় বলে লাইফস্টাইল। সেটা কোন কারণে এভাবে আচমকা পরিবর্তিত হয়ে গেলে অসুবিধা তো হবেই- আর সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারার কৌশলকেই বলে লাইফ স্কিল বা জীবনশৈলী।

ডক্টর সুবীর নাগ


           কাউন্সেলিং এমন একটি বিষয় যা আয়নার মতো কাজ করে। মানুষকে নিজেকে‌ দেখতে শেখায়, চিনতে সাহায্য করে। বাবা-মায়েদের শেখায় পেরেন্টিং স্টাইল, শিক্ষকদের শেখায় কগনিটিভ স্টাইল, সাধারণ মানুষকে শেখায় সোশ্যাল স্কিল, কিশোর বয়সে সচেতন করে ডেভলপমেন্টাল সাইকোলজির সাহায্যে। এ যেন এক পরশপাথর, যার স্পর্শে অনেক লোহাও সোনা হয়ে ওঠে।

আপনার রেটিং দিন:
[Total: 2 Average: 3]
আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন: