আজ ও বিস্ময়-গ্রীক অগ্নি

প্রত্যূষ রায়
5 রেটিং
449 পাঠক

তখন আরবরা নানা দেশ দখলের জন্য যুদ্ধ করে চলেছে। উত্তর আফ্রিকার কিয়দংশ  দখল করে তারা ইউরোপের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।ইউরোপে তখন ঐশ্বর্য খ্যাতিতে বিখ্যাত বাইজানটিয়াম সাম্রাজ্য ,যার কেন্দ্রে ছিল কন্সট্যানটিনোপল। বাইজানটিয়াম সাম্রাজ্যের আভ্যন্তরীন সমস্যার দিকে নজর দিয়ে আরব যুবরাজ ইবন আল মালিক আক্রমণ করেন।৪ বছর ধরে যুদ্ধ হওয়ার পর আরবরা পরাজিত হয়। আরব নৌবাহিনী কন্সট্যানটিনোপল অবরোধ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। সে সময় এক রহস্যময় আগুন আরব নৌবাহিনী পুড়িয়ে ছাড়খাড় করে দেয়।সে আগুন যে আলাদা তা বুঝতে আরব সৈনিকদের একটু সময় লেগেছিল। জলে সে আগুন নেভেনা । বেশীরভাগ সৈন্য সেদিন পুড়ে মারা যায়। কয়েকজন বর্ম খুলে জলে ঝাপিয়ে প্রাণ বাঁচায়। বাকিরা বর্ম পরিহিত অবস্থাতেই জলে ডুবে যায়। এ ভয়াবহ আগুন এল কোথাথেকে ! 


এ আগুন গ্রীক অগ্নি বা তরল অগ্নি বলে পরিচিত। সেসময়ের সবচাইতে প্রাণঘাতী কিন্তু রহস্যময় অস্ত্র। ক্যালিনিকাস নামে এক রসায়নবিদকে এ ফর্মুলার জনক বলে মনে করা হয়। তিনি সিরিয়ার অধিবাসী ছিলেন। আরবদের কারণেই তাকে গৃহ হারা হতে হয়। আবার কেউ মনে করে যে তিনি পূর্ব প্রচলিত অস্ত্রের প্রয়োজনীয় বিবর্তন ঘটান।সাধারণত উচ্চচাপে কোনো নল থেকে এ তরল বাতাসে ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথে তাতে আগুন ধরে যেত। কখনো তা পাত্রে ভরে ছুড়ে দেওয়া হত।সরাসরি যুদ্ধে এই অস্ত্র প্রয়োগ সহজ ছিল না। তাছাড়া ফর্মুলা বেহাত হয়ে যাওয়ার ভয়ে খুব সামান্য সময়ে তা প্রয়োগ করা হত। যদিও আরবরা এটি উদ্ভাবনের চেষ্টা চালিয়েছিল কিন্তু সেভাবে সফল হতে পারেনি।দ্বাদশ শতকের মারকাস গ্রিসিয়াস মনে করতেন বিশুদ্ধ সালফার ,লবণ ,তেল, পারস্যের গাম (বহুশর্করা),পীচ,পাইন গাছের রেসিন,আর নাইটার মিলিয়ে কাদা কাদা প্রায় তরল বস্তুটি তৈরি হত। যদিও এটি মনে করার স্তরেই রয়ে গেছে।আসল মিশ্রণের রহস্য রাজপরিবার আর ক্যালিনিকাসের পরিবারের মধ্যে সীমিত ছিল। আজও এই রহস্যের কিনারা হয়নি। 

আপনার রেটিং দিন:
[Total: 1 Average: 5]
আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

রেটিং ও কমেন্টস জন্য



নতুন প্রকাশিত